বিষয়বস্তুতে চলুন

হযরত ফাতেমা (সা.)-কে কোথায় দাফন করা হয়েছে?

wikishia থেকে
(এই নিবন্ধটি ‘হযরত ফাতেমা (সা.)-কে কোথায় দাফন করা হয়েছে’ সে সম্পর্কে। এ সম্পর্কিত আরোও তথ্য পেতে হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কাফন-দাফন ও হযরত ফাতেমা (সা.)-এর শাহাদাত নিবন্ধ অনুসরন করুন।)

হযরত ফাতেমা (সা.)-কে কোথায় দাফন করা হয়েছে (আরবি: موقع قبر السيدة فاطمة); এটা ইতিহাসের রহ্স্যময় একটি অধ্যায় যার প্রকৃত স্থান আরোও বেশি রহস্যজনক ভাবে গোপন রয়েছে। তবে, এর সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে হযরত ফাতেমা (সা.)-এর ঘর, রওজাতুন্নবী (সা.) মুবারক, জান্নাতুল বাকি এবং আকিলের ঘরকে বিবেচনা করা হয়েছে। শিয়া আলেমদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, হযরত ফাতেমা (সা.)-কে তার ঘরে দাফন করা হয়েছে; যদিও শেইখ তুসী বিশ্বাস করেন যে, অধিকাংশ শিয়া আলেম ফাতেমা (সা.)-কে রওজাতুন্নবী (সা.)-তে দাফন করা হয়েছে বলে মনে করেন। আল্লামা মাজলিসির মতে, শিয়া আকিদা অনুযায়ী, রওজাতুন্নবী (সা.)-তে ফাতেমা (সা.)-এর ঘরও অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে, কিছু গবেষক রওজাতুন্নবীর (সা.) সম্ভাবনাকে ঘরের অভিমতের সমর্থন বলে মনে করেছেন।

ঐতিহাসিক সাইয়্যেদ জাফর মুর্তজা আমেলি, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবরের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা অসম্ভব বলে মনে করেন। শেইখ তুসী এবং আমিন আল-ইসলাম তাবারসীর মতে, তিনটি স্থানেই হযরত ফাতেমা (সা.)-এর যিয়ারত করা উত্তম: রওজাতুন্নবী (সা.) মুবারক, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর ঘর এবং জান্নাতুল বাকি।

শিয়া সম্প্রদায় আকিদা অনুযয়ী, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবর অজানা থাকার কারণ হল, তাকে গোপনে দাফন করা হয়েছিল, যা হযরত ফাতেমার (আ.) নিজের অসিয়তেই হয়েছিল। তাদের মতে, তিনি ইমাম আলী (আ.)-এর খেলাফতের প্রকৃত হক্ক জবরদখল, তাঁর অধিকার আদায়ে মুসলমানদের এগিয়ে না আসা এবং পিতা থেকে প্রাপ্ত হাদিয়া বাগে (বাগান) ফাদাক কেড়ে নেওয়ার কারণে মুসলমানদের থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে হযরত ফাতেমা (সা.) অসিয়ত করেছিলেন, তাকে যেন গোপনে দাফন করা হয়। অধিকাংশ সুন্নি পণ্ডিত মনে করেন যে, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবর বাকিতে ইমামদের (আ.) পাশে অবস্থিত। কিছু শিয়া গবেষক সুন্নি পণ্ডিতদের এই অভিমতের কারণ হিসেবে ফাতেমা (সা.)-এর কবরের গোপনীয়তা সম্পর্কে শিয়া অনুসারীদের মতাদর্শগত অতীব গুরুত্ব কমানোর হীন প্রয়াসকে উল্লেখ করেছেন।

হযরত ফাতেমা (সা.)-এর সমাধিস্থল সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে, যেমন- "মারকাদু সাইয়্যিদাতিন নিসাই ফাতিমাতিশ শাহিদাতি আয্-যাহরা ফি আইয়্যি মাকান?" এবং " আইনা কাবরু ফাতেমা (সা.)?"।

দাফনের জায়গার গুরুত্ব

হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবরের বিষয়টি শিয়া কালামশাস্ত্রে স্থান পেয়েছে এবং এর গোপনীয়তাকে প্রথম খলিফা আবু বকরের সমালোচনা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।[১] শিয়া সম্প্রদায় হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবর গোপন থাকা কে আবু বকর ও উমরের প্রতি হযরত ফাতিমার (সা.) অসন্তুষ্টি এবং ইমাম আলীর খিলাফতরে প্রকৃত হক্ব ও ফাদাক জবরদখলের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে।[২] সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ হুসাইন জালালি (মৃত্যু ১৩৯৯) -এর মতে, ফাতিমা অসিয়ত করেছিলেন যে, তাকে গোপনে দাফন করা হোক, যাতে ইতিহাস তাঁর শাহাদাতের কারণগুলি ভুলে না যায়।[৩]

সম্ভাব্য স্থানসমূহ

শিয়া আলেম ও গবেষকরা হযরত ফাতেমা (সা.)-এর সমাধিস্থল সম্পর্কে বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা বলেছেন।[৪] শিয়া আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতামত হল যে, ফাতেমা (সা.)-কে তাঁর ঘরেই দাফন করা হয়েছে;[৫] যদিও শিয়া মুহাদ্দিস শেইখ তুসীর মতে, বেশিরভাগ শিয়া আলেমগণ বিশ্বাস করেন যে, হযরত ফাতেমাকে রওজাতুন্নবী (সা.)-তে দাফন করা হয়েছে।[৬] শিয়া সূত্রগুলিতে অন্যান্য সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে জান্নাতুল বাকি'[৭] এবং আকিলের ঘর।[৮]

শিয়া ঐতিহাসিক সাইয়্যেদ জাফর মুর্তজা আমেলি, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবরের অবস্থান নির্ধারণ করা অসম্ভব বলে মনে করেন।[৯] শেইখ তুসী[১০] এবং আমিন আল-ইসলাম তাবারসির[১১] মতে, তিনটি স্থানেই হযরত ফাতেমা (সা.)-এর যিয়ারত করা উত্তম: রওজাতুন্নবী (সা.)-তে, ফাতেমা (সা.)-এর ঘরে এবং জান্নাতুল বাকিতে।[১২] সাইয়্যেদ ইবনে তাউস তাঁর মিসবাহুয্-যাইর গ্রন্থে রওজাতুন্নবী (সা.)-কে [১৩] যিয়ারতের স্থান বলে মনে করেন; কিন্তু তাঁর আল-ইকবাল গ্রন্থে মহানবী (সা.)-এর হুজরা বা কক্ষকে উল্লেখ করেছেন।[১৪]

ফাতেমা (সা.)-এর ঘর

মুল নিবন্ধ: ফাতেমা (সা.)-এর ঘর

শিয়া গবেষকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মত হলো, ফাতেমা (সা.)-কে তাঁর ঘরে দাফন করা হয়েছিল।[১৫]

মসজিদে নববী (সা.)-তে হযরত ফাতেমার (আ.) ঘরের অবস্থান যা হযরত ফাতেমার (সা.) কবরের একটি সম্ভাব্য স্থান বলে মনে করা হয়।

শেইখ সাদুক,[১৬] ইবনে ইদ্রিস হিল্লি,[১৭] ইবনে তাউস,[১৮] আল্লামা মাজলিসি,[১৯] এবং সাইয়্যিদ মোহসেন আমিন,[২০] এই সম্ভাবনাকে অন্যান্য সম্ভাবনার চেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করেছেন। তারা ইমাম রেযা (আ.)-এর একটি হাদিস[২১] উদ্ধৃত করেছেন যে, ফাতেমা (সা.আ.)-কে তাঁর ঘরে দাফন করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বনি উমাইয়া কর্তৃক মসজিদে নববীর (সা.) সম্প্রসারণ করা হলে, ফাতেমার (সা.) কবর এর মধ্যে পড়ে।[২২]

কিছু শিয়া গবেষকের মতে, ইমাম আলী (আ.) তার খুতবাতে ফাতিমা (আ.)-কে "মহানবী (সা.)-এর পাশে দাফনকৃত" হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন,[২৩] যা তাঁকে ঘরে দাফন করার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে; কারণ মহানবী (সা.)-এর কবর মুবারকের সবচেয়ে কাছের স্থান ছিল ফাতিমা (আ.)-এর ঘর।[২৪] মহানবী (সা.)-এর কবরের পাশে দাফন হওয়া মর্যাদাপূর্ণ হওয়া বলে বিবেচিত হওয়ায়, এই সম্ভাবনার আরেকটি প্রমাণ; কারণ ইমাম হাসান (আ.)ও ইচ্ছাপোষণ করেছিলেন যে, সম্ভব হলে তাঁকে যেন মহানবী (সা.)-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। [২৫]

কিছু শিয়া গবেষক, নিজ ঘরে দাফনের সম্ভাবনাকে ইমাম আলী (আ.) কর্তৃক ফাতেমা (সা.)-এর মৃতদেহ জানাযার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়ার হাদিসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেছেন। এর উত্তরে বলা হয় যে, জানাযাটি আসল জানাজা ছিল না, বরং একটি নকল জানাযা ছিল,[২৬] অথবা নকল কবর তৈরি করার জন্য এবং মূল কবরের অবস্থান সনাক্তকরণ এড়াতে এরূপ জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[২৭] একজন শিয়া গবেষক বিশ্বাস করেন যে, জানাযাটি আলী (আ.) এবং ফাতেমা (সা.)-এর এক ঘর থেকে ফাতেমা (সা.)-এর অন্য একটি ঘরে, যা জান্নতুল বাকি'-এর কাছে অবস্থিত ছিল, নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।[২৮] তার মতে, ফাতেমা (সা.)-এর বাড়িতে আক্রমণসহ মহানবী (সা.)-এর শাহাদাতের পরের ঘটনাগুলি বাকি'-এর কাছে অবস্থিত বাড়িতে সংঘটিত হয়েছিল।[২৯]

রওজাতুন্নবীতে

মুল নিবন্ধ: রওজাতুন্নবী

শেইখ মুফিদ তাঁর আল-মুকনিয়াহ গ্রন্থে ফাতেমা (সা.)-কে রওজাতুন্নবীতে দাফন করা হয়েছে, এই বিষয়টিকে সঠিক বলে মনে করেন।[৩০] শিয়া মুহাদ্দিস শেইখ তুসীর মতে, অধিকাংশ শিয়া গবেষক বিশ্বাস করেন যে, ফাতেমা (সা.)-কে রওজাতুন্নবীতে দাফন করা হয়েছিল।[৩১] রওজাতুন্নবী মসজিদে নববীর (সা.) মিম্বর এবং মহানবীর (সা.) কবর মুবারকের মধ্যবর্তী স্থান, যাকে মহানবী (সা.) জান্নাতের রওজাগুলির মধ্যে একটি বলেছিলেন।[৩২] মা'আনি আল-আখবার গ্রন্থের একটি হাদিস অনুসারে, নবী (সা.) এই স্থানটিকে রওজা বলে বিবেচনা করেছিলেন; কারণ ফাতিমা (সা.)-কে সেখানে দাফন করা হয়েছিল।[৩৩]

ষষ্ঠ শতাব্দীর মুফাসসির ও ধর্মতত্ত্ববিদ আমিন আল-ইসলাম তাবারসি [৩৪] এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর মুফাসসির ও মুহাদ্দিস ইবনে শাহর আশুব[৩৫] ‘ঘর এবং রওজাতুন্নবী’ দুটি সম্ভাবনাকে বিশুদ্ধতার কাছাকাছি বলে মনে করেছেন। শেইখ তুসী এই দুটি সম্ভাবনাকে একে অপরের কাছাকাছি বলে মনে করেছিলেন[৩৬] এবং আল্লামা মাজলিসি এগুলিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন; কারণ শিয়া বিশ্বাস অনুসারে, রওজাতুন্নবীতে ফাতেমা (সা.)-এর ঘরও অন্তর্ভুক্ত।[৩৭] এই কারণে, কিছু পণ্ডিত রওজার সম্ভাবনাকে ঘরের সম্ভাবনার সমর্থক বলে মনে করেছেন।[৩৮]

জান্নাতুল বাকি

মুল নিবন্ধ: জান্নাতুল বাকি
মসজিদে নববীতে (সা.) হযরত ফাতেমার (সা.) ঘরের ভেতরের অংশ।

সপ্তম শতাব্দীর একজন শিয়া ইতিহাসবিদ বাহাউদ্দিন ইরবিলির মতে, সাধারণ জনগণ এবং ঐতিহাসিকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে, ফাতেমাকে (সা.) জান্নাতুল বাকি'তে দাফন করা হয়েছে। তিনি এই সম্ভাবনার সমর্থনে একটি হাদিসও উল্লেখ করেছেন। তবে, তিনি জান্নাতুল বাকির কোন বিশেষ স্থানকে নির্দিষ্ট করেননি।[৩৯]

শেইখ তুসী[৪০] এবং আমিন আল-ইসলাম তাবারসী[৪১] এই সম্ভাবনাকে অসম্ভব বলে মনে করেছেন। উসুলে কাফি গ্রন্থেও একটি হাদিসে এসেছে যে, ফাতিমা (সা.)-কে বাকিতে দাফন করা হয়নি।[৪২] এই হাদিস অনুসারে, ইমাম হাসান (আ.) ইমাম হুসাইন (আ.)-কে অসিয়ত করেছিলেন: ‘শাহাদাতের পর, আমাকে নবী (সা.)-এর কবরে নিয়ে যাও যাতে আমি তাঁর সাথে আমার বায়াত নবায়ন করতে পারি। তারপর আমাকে আমার মায়ের কবরে নিয়ে যাও এবং সেখান থেকে আমাকে বাকিতে নিয়ে যাও।’[৪৩]

আকিলের ঘর

মুল নিবন্ধ: আকিলের ঘর

আল্লামা মাজলিসি তাঁর মিসবাহুল আনওয়ার গ্রন্থে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে যে, ফাতেমা (সা.আ.)-কে আকিল ইবনে আবি তালিবের ঘরে দাফন করা হয়েছিল।[৪৪] আকিলের ঘর জান্নাতুল বাকি'র বাইরে; তবে এর নিকটে অবস্থিত ছিল।[৪৫] আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং শিয়া সম্প্রদায়ের চারজন ইমাম (আ.)-কে সেখানে দাফন করার পর, এটি একটি মাযার বা তীর্থস্থানে রূপান্তরিত হয়।[৪৬] পরবর্তীতে সম্প্রসারণের সাথে সাথে এটি জান্নাতুল বাকি'-এর সাথে যুক্ত হয়।[৪৭]

কাজার যুগের কবি ও লেখক মোহাম্মদ হোসাইন ফারাহানি ১৩০২ থেকে ১৩০৩ হিজরির মধ্যে তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ করেছেন যে, আকিলের ঘরে ইমামদের মাজারের সাথে একটি কবর ছিল যা হযরত ফাতেমা (সা.)-এর নামে পরিচিত ছিল এবং শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ই সেখানে যেতেন এবং যিয়ারতনামা পাঠ করতেন।[৪৮]

সুন্নি আলেমদের মধ্যে প্রচলিত মত হলো, হযরত ফাতেমা (সা.)-এর কবর আকিলের ঘরে অবস্থিত।[৪৯] তাদের যুক্তিগুলির মধ্যে একটি হল, ইমাম হাসান (আ.) অসিয়ত করেছিলেন যে, তাঁকে যেন তাঁর মা ফাতেমা (সা.)-এর পাশে দাফন করা হয়।[৫০] তবে, একটি হাদিসের[৫১] ভিত্তিতে শিয়ারা বিশ্বাস করে যে আকিলের ঘরে দাফন করা ফাতেমা হলেন ইমাম আলী (আ.)-এর মা ফাতেমা বিনতে আসাদ।[৫২]

শিয়া গবেষক মুহাম্মদ সাদিক নাজমি মনে করেন যে, সুন্নি ইতিহাসবিদ ও লেখকরা ফাতিমা (সা.)-এর কবর গোপন রাখার বিষয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের অতীব গুরুত্বরোপকে দূর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করেতই -ফাতিমা (সা.)-কে আকিলের ঘরে দাফন করা হয়েছে- বলে প্রমাণ করার হীন চেষ্টা করেছেন।[৫৩]

সুন্নি সূত্রগুলিতে ফাতেমা (সা.)-এর দাফনের স্থান সংক্রান্ত অন্যান্য সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হল: তাঁর ঘর,[৫৪] রওজাতুন্নবী,[৫৫] আকিল ইবনে আবি তালিবের ঘরের বাইরের কোণ,[৫৬] এবং বাইতুল আহযান।[৫৭]

দাফনের স্থান গোপন থাকার রহস্য

মূল নিবন্ধ: ফাতেমা (সা.)-এর অসিয়তসমূহ

শিয়া গবেষকরা ফাতেমা (সা.)-এর দাফনের স্থান বা কবর গোপন রাখার কারণ হিসেবে গোপনে দাফন সংক্রান্ত তাঁর নিজের অসিয়তকে উল্লেখ করেছেন।[৫৮] শিয়া সূত্র অনুসারে, ফাতেমা’র এই অসিয়তের কারণ হিসেবে ইমাম আলী (আ.)-এর খিলাফত জবরদখল, ফাদাক ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুসলমানদের ইমাম আলী (আ.)-এর খিলাফতের অধিকার আদায়ে এগিয়ে না আসাকে উল্লেখ করেছেন।[৫৯] শেইখ মুফিদ[৬০] এবং দালাইলুল ইমামাহ গ্রন্থের লেখকের মতে,[৬১] ফাতেমা (সা.) স্বয়ং অসিয়ত করেছিলেন যাতে তাঁর কবর গোপন রাখা হয়।[নোটসমূহ ১]

ইমাম আলী (আ.) রাতের আঁধারে গোপনে ফাতিমা (আ.)-কে দাফন করেন[৬২] এবং দাফনের পর, তিনি তার কবরের চিহ্ন ঢেকে ফেলেন।[৬৩] এরপর, তিনি চল্লিশটি নকল কবর তৈরি করেন[৬৪] এবং কারো কারো মতে, সাতটি নকল কবর তৈরি করেন,[৬৫] যাতে ফাতিমা (আ.)-এর কবর শনাক্ত না হয়। কিছু শিয়া সূত্রে এসেছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব[নোটসমূহ ২] কবরের মুখ উন্মোচন করে হযরত ফাতিমার (আ.) জন্য নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু ইমাম আলী (আ.)-এর হুমকির পর তা ত্যাগ করে।[৬৬]

বলা হয়ে থাকে যে, এখন অবধি ফাতেমা (সা.)-এর সাথে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কবরকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।[৬৭] শিয়া আলেম কাজী নূরুল্লাহ শুশতারী [৬৮] এবং সাইয়্যিদ মুহাম্মদ শিরাজী[৬৯] বলেছেন যে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাবের পর তাঁর মাধ্যমে ফাতেমা (সা.)-এর কবর সুনির্দিষ্ট হবে; তবে, তারা এই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ উল্লেখ করেননি। সুন্নি ঐতিহাসিক আলী ইবনে আবদুল্লাহ সামহুদী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরী) ফাতেমা (সা.)-এর কবর গোপন রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কবর ইট-পাথর ও বালি দিয়ে ঢালাই বা পাকা করার প্রচলন ছিল না।[৭০] এই কারণটির সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে; কারণ মহানবী (সা.)-এর অনেক সাহাবী এবং অন্যান্য আত্মীয়দের কবর এখন অবধি সুনির্দিষ্ট আছে। [৭১]

তথ্যসূত্র

  1. ↑ আল্লামা হিল্লি, কাশফুল মুরাদ, ১৪১৩ হি., পৃ: ৩৭৩।
  2. ↑ মাযাহেরী, আন্দিশেয়ে নাব, ১৩৯০ (ফার্সি সন), প: ৬৫।
  3. ↑ হুসাইনি জালালী, ফিহরিসুত তুরাস, ১৪৩৬ হি., পৃ: ৭১।
  4. ↑ শেইখ তাবারসী, ইলামুল ওয়ারা বি আ’মালিল হুদা, ১৪১৭ হি., খ: ১, পৃ: ৩০১।
  5. ↑ হুসাইনি শিরাজী, فاطمة الزهراء افضل اسوة للنساء, ১৪১৪ হি., পৃ: ৫৮৮ ও আনসারী যানযানী, الموسوعة الکبری عن فاطمة الزهرا(س), দালিলানা, খ: ১৬, পৃ: ১১৩।
  6. ↑ শেইখ তুসী, مصباح المتهجد و سلاح المتعبد, ১৪১১ হি., খ: ২, পৃ: ৭১১।
  7. ↑ ইরবিলী, কাশফুল গুম্মাতি ফি মারিফাতিল আইম্মাতি, ১৩৮১ হি., খ: ১, পৃ: ৫০১।
  8. ↑ মাজলেসী, বিহারুল আনওয়ার, ১৪০৩ হি., খ: ৭৯, পৃৃৃ: ২৭।
  9. ↑ আমেলী, মা’সাতুয যাহরা (সা.), ১৪১৮ হি., খ: ১, পৃ: ২৫২-২৫৩।
  10. ↑ শেইখ তুসী, مصباح المتهجد و سلاح المتعبد, ১৪১১ হি., খ: ২, পৃ: ৭১১।
  11. ↑ শেইখ তাবারসী, তাজুল মাওয়ালিদ, ১৪২২ হি., পৃ: ৮০।
  12. ↑ শেইখ তুসী, مصباح المتهجد و سلاح المتعبد, ১৪১১ হি., খ: ২, পৃ: ৭১১।
  13. ↑ ইবনে তাউস, মিসবাহুয্ যায়ের, মুয়াসসাসাতু আলিল বাইত (আ.) লি ইহয়াইত তুরাস, পৃ: ৫২।
  14. ↑ ইবনে তাউস, আল-ইকবালু বিল আমালিল হাসানাহ, ১৩৭৬ (ফার্সি সন), খ: ৩, পৃ: ১৬১।
  15. ↑ হুসাইনি শিরাজী, الدعاء و الزیارة, ১৪১৪ হি., পৃ: ৫৮৮ ও আনসারী যানযানী, الموسوعة الکبری عن فاطمة الزهرا(س), দালিলানা, খ: ১৬, পৃ: ১১৩।
  16. ↑ শেইখ সাদুক, মান লা ইয়াহযুরুহুল ফাকিহ, ১৪১৩ হি., খ: ২, পৃ: ৫৭২।
  17. ↑ ইবনে ইদ্রিসে হিল্লি, السرائر الحاوی لتحریر الفتاوی, ১৪১০ হি., খ: ১, পৃ: ৬৫২।
  18. ↑ ইবনে তাউস, আল-ইকবালু বিল আমালিল হাসানাহ, ১৩৭৬ (ফার্সি সন), খ: ৩, প: ১৬৩।
  19. ↑ মাজলিসি, মিরআতুল উকুল, ১৪০৪ হি., খ: ৫, পৃ: ৩৪৯।
  20. ↑ আমিন, আইয়ানুশ শিয়া, ১৪০৩ হি., খ: ১, পৃ: ৩২২।
  21. ↑ শেইখ সাদুক, معانی الأخبار, ১৪১৩ হি., পৃ: ২৬৮।
  22. ↑ শেইখ সাদুক, মান লা ইয়াহযুরুহুল ফাকিহ, ১৪১৩ হি., খ: ২, পৃ: ৫৭২।
  23. ↑ ইবনে শাহর আশুব মাযান্দারানী, মানাকেবে আলে আবি তালিব (আ.), ১৩৭৯ হি., খ: ৩, পৃ: ৩৬৪।
  24. ↑ মাযান্দারানী, শারহুল কাফি বহাশিয়ে আবুল হাসান শা’রানী, ১৩৮৪ হি., খ: ৭, পৃ; ২০৮ ও হাসানযাদেহ আমুলী, هزار و یک کلمه, ১৩৭৬ (ফার্সি সন), খ: ৩, পৃ: ৪৪৬।
  25. ↑ নাজমী, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ১২২।
  26. ↑ হুসাইনি শিরাজী, الدعاء و الزیارة, ১৪১৪ হি., পৃ: ৫৮৮।
  27. ↑ তুরাবী, হামযাহ ও মাজিদ আহমাদি কাচায়ী, جستاری در چگونگی و مکان دفن حضرت فاطمه زهرا(س) در منابع نخستین, ১৩৯৯ (ফার্সি সন), পৃ: ১৩১।
  28. ↑ নাজমী, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ১৬৬।
  29. ↑ নাজমী, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ১৬৩।
  30. ↑ শেইখ মুফিদ, আল-মুকনিয়াহ, ১৪১৩ হি., পৃ: ৪৫৯।
  31. ↑ শেইখ তুসী,مصباح المتهجد و سلاح المتعبد, ১৪১১ হি., খ: ২, পৃ: ৭১১।
  32. ↑ শেইখ কুলাইনী, উসুলে কাফি, ১৪২৯ হি., খ: ৯, পৃ: ২৫৭।
  33. ↑ শেইখ সাদুক,معانی الأخبار, ১৪১৩ হি., পৃ: ২৬৭।
  34. ↑ শেইখ তাবারসী, তাজুল মাওয়ালিদ, ১৪২২ হি., পৃ: ৮০।
  35. ↑ ইবনে শাহর আশুব মাযান্দারানী, মানাকেবে আলে আবি তালিব (আ.), ১৩৭৯ হি., খ: ৩, পৃ: ৩৬৫।
  36. ↑ শেইখ তুসী, তাহযিবুল আহকাম, ১৪০৭ হি., খ: ৬, পৃ: ৯।
  37. ↑ মাজলেসী, বিহারুল আনওয়ার, ১৪০৩ হি., খ: ৯৭, পৃ: ১৯৩ ও মাজলেসী, মিরআতুল উকুল, ১৪০৪ হি., খ: ৫, পৃ: ৩৪৯।
  38. ↑ কাইদান, তারিখে ইসলামিয়ে মক্কা মুকার্রামা ও মদিনা মুনাউওয়ারা, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ২১০।
  39. ↑ ইরবিলী, কাশফুল গুম্মাতি ফি মারিফাতিল আইম্মাতি, ১৩৮১ হি., খ: ১, পৃ: ৫০১।
  40. ↑ শেইখ তুসী, তাহযিবুল আহকাম, ১৪০৭ হি., খ: ৬, পৃ: ৯।
  41. ↑ শেইখ তাবারসী, ইলামুল ওয়ারা বি আ’মালিল হুদা, ১৪১৭ হি., খ: ১, পৃ: ৩০১।
  42. ↑ আনসারী যানযানী, الموسوعة الکبری عن فاطمة الزهرا(س), দালিলানা, খ: ১৬, পৃ: ৫১।
  43. ↑ শেইখ কুলাইনী, উসুলে কাফি, ১৪২৯ হি., খ: ২, পৃ: ৪৩।
  44. ↑ মাজলেসী, বিহারুল আনওয়ার, ১৪০৩ হি., খ: ৭৯, পৃ: ২৭।
  45. ↑ কাইদান, তারিখে ইসলামিয়ে মক্কা মুকার্রামা ও মদিনা মুনাউওয়ারা, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ২০৮।
  46. ↑ নাজমী,تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ১২৭।
  47. ↑ নাজমী,تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ৮১।
  48. ↑ ফারাহানি, সফরনামা মির্জা মুহাম্মাদ হুসাইন ফারাহানি, ১৩৬২ (ফার্সি সন), পৃ: ২২৯।
  49. ↑ ইবনে নাজ্জার, الدرة الثمینه فی اخبار المدینه, শেরকাতু দারিল আরকাম, পৃ: ১৬৬; কাইদান, তারিখে ইসলামিয়ে মক্কা মুকার্রামা ও মদিনা মুনাউওয়ারা, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ২০৯ ও সামহুদী, وفاء الوفاء باخبار دار المصطفی, ১৪১৯ হি., খ: ৩, পৃ: ৯৩।
  50. ↑ মুহিবুদ্দিন তাবারী, যাখাইরুল উক্ববা ফি মানাকিবি যাউইল কুরবা, ১৫৬ হি., পৃ: ৫৪ ও ১৪১।
  51. ↑ শেইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩ হি., খ: ২, পৃ: ১৭।
  52. ↑ কাইদান, তারিখে ইসলামিয়ে মক্কা মুকার্রামা ও মদিনা মুনাউওয়ারা, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), ২০৯ ও কুম্মী, الانوار البهیه فی تواریخ الحجج الاهیة, মুয়াসসাসাতুল ইসলামি আল-মুদাররেসিন, পৃ: ১৭৪।
  53. ↑ নাজমী, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ: ১২৭।
  54. ↑ ইবনে জুওযী, [مثیر الغرام الساکن الی اشرف الاماکن, ১৪১৫ হি., পৃ: ৪৬৪।
  55. ↑ সেব্ত বিন জুওযী, মিরআতুয যামান ফি তাওয়ারিখিল আইয়ান, ১৪৩৪ হি., খ: ৫, পৃ: ৬০।
  56. ↑ ইবনে শাব্বাহ, তারিখুল মাদিনাতি লি ইবনে শাব্বাহ, ১৩৯৯ হি., খ: ১, পৃ: ১০৫।
  57. ↑ দিয়ার বাকরি, তারিখুল খুমাইসি ফি আহওয়ালি আন্-ফাসুন নাফিস, দারু সাদের, খ: ২, পৃ: ১০৬।
  58. ↑ শেইখ তাবারসী, তাজুল মাওয়ালিদ, ১৪২২ হি., পৃ: ৮০; নাজী জাযায়েরী, মারকাদু সাইয়্যেদাতিন নিসাই ফাতিমাতু আশ্শাহিদাতুয যাহরা (সা.) ফি আইয়্যি মাকান? ১৩৯৫ (ফার্সি সন), পৃ: ১৬।
  59. ↑ খুসাইবি, আল-হিদায়াতুল কুবরা, ১৪১৯ হি., পৃ; ২৭৮ ও ফাত্তাল নিশাপুরি, রওযাতুল ওয়ায়েজিন, ১৩৭৫ (ফার্সি সন), খ: ১, পৃ: ১৫১।
  60. ↑ শেইখ মুফিদ, আল-আমালি, ১৪১৩ হি., পৃ: ২৮১।
  61. ↑ তাবারি আমুলী সাগির, দালাইলুল ইমামা, ১৪১৩ হি., পৃ; ১৩৩।
  62. ↑ ইবনে শাব্বাহ, তারিখুল মাদিনাতি লি ইবনে শাব্বাহ, ১৩৯৯ হি., খ: ১, পৃ: ১০৭।
  63. ↑ শেইখ কুলাইনী, উসুলে কাফি, ১৪২৯ হি., খ: ২, পৃ: ৪৯০।
  64. ↑ তাবারি আমুলী সাগির, দালাইলুল ইমামা, ১৪১৩ হি., পৃ: ১৩৬ ও খুসাইবি, আল-হিদায়াতুল কুবরা, ১৪১৯ হি., পৃ: ১৭৯।
  65. ↑ ইবনে শাহর আশুব মাযান্দারানী, মানাকেবে আলে আবি তালিব (আ.), ১৩৭৯ হি., খ: ৩, পৃ: ৩৬৩।
  66. ↑ হেলালি, কিতাবে সুলাইম বিন কাইস হেলালি, ১৪০৫ হি., খ: ২, পৃ: ৮৭১ ও মাজলেসী, বিহরুল আনওয়ার, ১৪০৩ হি., খ: ২৮, পৃ: ৩০৪।
  67. ↑ আমেলী, মা’সাতুয যাহরা (সা.), ১৪১৮ হি., খ: ১, পৃ: ২৫২ ২৫৩ ও নাজমী, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ; ১১৩।
  68. ↑ শুশতারী, ইহকাকুল হাক্ক ওয়া ইযহাকুল বাতিল, ১৪০৯ হি., খ: ২৮, পৃ; ৫৩৪।
  69. ↑ হুসাইনি শিরাজী, فاطمة الزهراء افضل اسوة للنساء, ৪১৪ হি., খ: ১, পৃ: ৩১।
  70. ↑ সামহুদী,وفاء الوفاء باخبار دار المصطفی, ১৪১৯ হি., খ: ৩, পৃ: ৯৩।
  71. ↑ নাজমী,تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره, ১৩৮৬ (ফার্সি সন), পৃ; ১১৪।

নোটসমূহ

  1. ↑ ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর অসিয়তে বর্ণিত কবর গোপন রাখার অন্যতম কারণ হলো, ইতিহাস জুড়ে তৎকালীন হুকুমাতের প্রতি ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর অসন্তোষ এবং মহানবী (সা.)-এর একমাত্র কন্যার কবর কেন গোপন রয়েছে, মুসলিম উম্মাহর কাছে এই প্রশ্ন অব্যাহত রাখা। এই কারণেই সৌদি আরবের শাসকদের দ্বারা ফাতিমা (সা.)-এর কবর চিহ্নিত করার সাথে শিয়া উলামাগণ একমত হয়নি। এই উদ্দেশ্যে একটি দল প্রথমে ইমাম খোমিনীর (র.) কাছে আসলে তিনি তাদেরকে আয়াতুল্লাহ গোলপাইগানীর কাছে পাঠান। তাদের অনুরোধের জবাবে বিখ্যাত শিয়া মুজতাহিদ সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ রেজা গোলপাইগানী বলেন: ‘যদি সকল সকল আলেম এই বিষয়ে একমত হন, আমিই সেই ব্যক্তি যিনি বিরোধিতা করেন এবং এই বিরোধিতার জন্য আমি আমার জীবন দিতেও রাজি।’ তিনি হযরত যাহরা (সা.)-এর কবর গোপন রাখাকে শিয়াদের মুযলুমিয়াত ও ন্যায়ের প্রমাণ হিসেবেও বিবেচনা করতেন এবং যদি এটি প্রকাশ পেত, তাহলে আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর কবরের মতোই প্রকাশিত হত।[১]
  2. ↑ কিছু সূত্র এই উক্তির বক্তাকে উল্লেখ করে না এবং কেবল ‘উলাতুল আমর’ শব্দটি ব্যবহার করে এটি উল্লেখ করেছে।(তাবারি আমুলী, দাালাইলুল ইমামাহ, ১৪১৩ হিজরি, পৃ. ১৩৬।)

গ্রন্থপঞ্জি

  • ইবনে ইদ্রিসে হিল্লি, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, السرائر الحاوی لتحریر الفتاوی, কোম, নাশরিল ইসলামি আত তাবিয়াতি লি জামাআতিল মুদাররেসিন ইনস্টিটিউট, ১৪১০ হি.,
  • ইবনে জুওযী, আব্দুর রহমান বিন আলী, مثیر الغرام الساکن الی اشرف الاماکن, তাহকিক-মুস্তাফা ‍মুহাম্মাদ হুসাইন যাহাবী, কায়রো, দারুল হাদিস, ১৪১৫ হি.,
  • ইবনে সাইয়্যেদাহ, আলী বিন ইসমাইল, আল মুহকামু ওয়াল মুহিত; তাহকিক ও তাসহিহ-আব্দুল হামিদ হেন্দাভী, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪২১ হি.,
  • ইবনে শাব্বাহ, উমার বিন শাব্বাহ বিন উবাইদাহ, তারিখুল মাদিনাতি লি ইবনে শাব্বাহ; তাহকিক- ফাহিম মুহাম্মাদ শালতুত, জেদ্দা, আস সাইয়্যেদু হাবিব মাহমুদ আহমাদ, ১৩৯৯ হি.,
  • ইবনে শাহর আশুব মাযান্দারানী, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকেবে আলে আবি তালিব (আ.), কোম, আল্লামা, ১৩৭৯ হি.,
  • ইবনে তাউস, আলী বিন মুসা, মিসবাহুয্ যায়ের; তাহকিক-আলিল বাইত (আ.) লি ইহয়াইত তুরাস ইনস্টিটিউট, কোম, আলিল বাইত (আ.) লি ইহয়াইত তুরাস ইনস্টিটিউট, (বি:তা:),
  • ইবনে তাউস, আলী বিন মুসা, আল ইকবালু বিল আমালিল হাসানাহ; তাহকিক ও তাসহিহ; জাওয়াদ কাইয়্যুমী ইস্পাহানী, কোম, দাফতারে তাবলিগাতে ইসলামি, ১৩৭৬ (ফার্সি সন),
  • ইবনে কুতাইবা দিনাভারী, تأویل مختلف الحدیث, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৬ হি.,
  • ইবনে নাজ্জার, মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ, الدرة الثمینه فی اخبار المدینه, শেরকাতু দারিল আরকাম, (বি:তা:),
  • ইরবিলী, আলী বিন ঈসা, কাশফুল গুম্মাতি ফি মারিফাতিল আইম্মাতি; তাহকিক ও তাসহিহ-সাইয়্যেদ হাশেম রাসুলি মাহাল্লাতি, তাবরিয, বানি হাশিমি, ১৩৮১ হি.,
  • আমিন, সাইয়্যেদ মুহসিন, আইয়ানুশ শিয়া; তাহকিক-হাসান আমিন, বৈরুত, দারু আত্-তায়ারুফি লিল মাতবুয়াত, ১৪০৩ হি.,
  • উম্মুল মুহসিন, কাবরে মাদারাম কোজাস্ত, কোম, দালিলেমা, ১৩৯২ (ফার্সি সন),
  • আনসারী যানযানী, ইসমাইল, الموسوعة الکبری عن فاطمة الزهرا(س), দালিলানা, (বি:তা:),
  • তুরাবী, হামযাহ ও মাজিদ আহমাদি কাচায়ী, جستاری در چگونگی و مکان دفن حضرت فاطمه زهرا(س) در منابع نخستین (হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.)-এর দাফনের পদ্ধতি এবং স্থান সম্পর্কে একটি গবেষণা), একটি ইলমি ত্রৈমাসিকে: পাজুহেশি তারিখে ইসলাম, সংখ্যা-৮৩, ১৩৯৯ (ফার্সি সন),
  • হুসাইনি জালালী, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ হুসাইন, ফিহরিসুত তুরাস, তালিকাতে সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ রেযা হুসাইনি জালালী ও অন্যান্য, বৈরুত, দারুল ভিলাই লি সানাআতিন নাশরি, ১৪৩৬ হি.,
  • হুসাইনি শিরাজী, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ, فاطمة الزهراء افضل اسوة للنساء (ফাতিমা আয যহরা হলেন মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ), বৈরুত, আত তাবলিগুল আলামিয়্যাহ ইনস্টিটিউট, ১৪১৪ হি.,
  • হুসাইনি শিরাজী, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ, الدعاء و الزیارة, বৈরুত, ফিকরুল ইসলামি ইনস্টিটিউট, ১৪১৪ হি.,
  • হামুদ, মুহাম্মাদ জামিল, أبهی المداد فی شرح مؤتمر علماء بغداد, বৈরুত, আলামি ইনস্টিটিউট, ১৪২৩ হি.,
  • হাসানযাদেহ আমুলী, হাসান, هزار و یک کلمه, কোম, দাফতারে তাবলিগাতে ইসলামি, ১৩৭৬ (ফার্সি সন),
  • খুসাইবি, হুসাইন বিন হামদান, আল হিদায়াতুল কুবরা, বৈরুত, আল-বালাগ, ১৪১৯ হি.,
  • দিয়ার বাকরি, হুসাইন, তারিখুল খুমাইসি ফি আহওয়ালি আন্-ফাসুন নাফিস, বৈরুত, দারু সাদের, (বি:তা:),
  • دیدار شهریار و مقام معظم رهبری (শাহরিয়ার (কবি) এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মধ্যকার সাক্ষাৎ), ফারহিখতেগান সংবাদপত্র, সংখ্যা-৩১৩৭, ২০২১ (ফার্সি সন),
  • রাযি হুসাইন, أین قبر فاطمة(س), বৈরুত, দারুল মুহাজ্জাতিল বায়দা, ১৪৩২ (ফার্সি সন),
  • যামাখশারি, মাহমুদ বিন উমার, মুকাদ্দামাতুল আদাব, তেহরান, মুতালেয়াতে ইসলামিয়ে দানেশগাহ ইনস্টিটিউট তেহরান, ১৩৮৬ (ফার্সি সন),
  • সেব্ত বিন জুওযী, ইউসুফ, মিরআতুয যামান ফি তাওয়ারিখিল আইয়ান; তাহকিক-মুহাম্মাদ বারাকাত ও অন্যান্য, দামেশক, দারু আর্-রিসালাতিল আলামিয়্যাহ, ১৪৩৪ হি.,
  • সামহুদী, আলী বিন আব্দুল্লাহ, وفاء الوفاء باخبار دار المصطفی, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৯ হি.,
  • শাহরুখী, মাহমুদ ও মুশফিক কাশানী, অইনেয়ে ইসমাত, কোম, ইন্তেশারাতে উভেহ, প্রথম প্রকাশ, (বি:তা:),
  • শুস্তারী, কাযী নুরুল্লাহ, ইহকাকুল হাক্ক ওয়া ইযহাকুল বাতিল, মাকতাবাতু আয়াতুল্লাহ মারাশী নাজাফী, কোম, ১৪০৯ হি.,
  • শেইখ সাদুক, মুহাম্মাদ বিন আলী, ইলালুশ শারায়েঅ্, কোম, কিতাবফুরুশিয়ে দাভারী, ১৩৮৫ (ফার্সি সন),
  • শেইখ সাদুক, মুহাম্মাদ বিন আলী, معانی الأخبار, তাহকিক ও তাসহিহ-আলী আকবার গাফ্ফারী, কোম, দাফতারে ইন্তেশারাতে ইসলামি, ১৪১৩ হি.,
  • শেইখ সাদুক, মুহাম্মাদ বিন আলী, মান লা ইয়াহযুরুহুল ফাকিহ; তাহকিক ও তাসহিহ-আলী আকবার গাফ্ফারী, কোম, দাফতারে ইন্তেশারাতে ইসলামি, ১৪১৩ হি.,
  • শেইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, আল-আমালি, তাহকিক ও তাসহিহ- বি’সাহ ইনস্টিটিউট, কোম, দাফতারে ইন্তেশারাতে ইসলামি, ১৪১৪ হি.,
  • শেইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, مصباح المتهجد و سلاح المتعبد, বৈরুত, ফিকহুশ শিয়া ইনস্টিটিউট, ১৪১১ হি.,
  • শেইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, তাহযিবুল আহকাম; তাহকিক ও তাসহিহ-হাসান আল-মুসাভী খোরাসান, তেহরান, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৭ হি.,
  • শেইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ, আল ইরশাদ; তাহকিক ও তাসহিহ- আলিল বাইত (আ.) ইনস্টিটিউট, কোম, শেইখ মুফিদ কন্ফরেন্স, ১৪১৩ হি.,
  • শেইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ, আল আমালি, তাহকিক ও তাসহিহ- উস্তাদওয়ালী ও আলী আকবার গাফ্ফারী, কোম, দারুল মুফিদ, ১৪১৩ হি.,
  • শেইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ, আল মুকনিয়াহ, কোম, শেইখ মুফিদ কন্ফরেন্স, ১৪১৩ হি.,
  • শেইখ তাবারসী, ফাযল বিন হাসান, ইলামুল ওয়ারা বি আ’মালিল হুদা, তাহকিক ও তাসহিহ- আলিল বাইত (আ.) ইনস্টিটিউট, কোম, শেইখ মুফিদ কন্ফরেন্স, ১৪১৭ হি.,
  • শেইখ তাবারসী, ফাযল বিন হাসান, তাজুল মাওয়ালিদ, বৈরুত, দারুল কারি, ১৪২২ হি.,
  • তাবারি আমুলী সাগির, মুহাম্মাদ বিন জারির, দালাইলুল ইমামা; তাহকিক ও তাসহিহ- কিসমু আদ্-দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাতি বি’সাত ইনস্টিটিউট, কোম, বে’সাত, ১৪১৩ হি.,
  • আমেলী, সাইয়্যেদ জাফর ‍মুর্তাজা, মা’সাতুয যাহরা (সা.), বৈরুত, দারু আস্-সিরাহ, ১৪১৮ হি.,
  • আল্লামা হিল্লি, কাশফুল মুরাদ; তাসহিহ-হাসান হাসানযাদেহ আমুলী, কোম, আন্-নাশরিল ইসলামি ইনস্টিটিউট, ১৪১৩ হি.,
  • ফাত্তাল নিশাপুরি, মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ, রওযাতুল ওয়ায়েজিন কোম, রাজি প্রকাশনী, ১৩৭৫ (ফার্সি সন),
  • ফুরাত কুফি, تفسیر فرات الکوفی; তাহকিক ও তাসহিহ- মুহাম্মাদ কাজিম, তেহরান, আত্-তাবাই ইনস্টিটিউট ও নাশরি ফি ভেযারাতিল ইরশাদিল ইসলামি, ১৪১০ হি.,
  • ফারাহানি, মুহাম্মাদ হুসাইন, সফরনামা মির্জা মুহাম্মাদ হুসাইন ফারাহানি, তেহরান, ফেরদৌস, ১৩৬২ (ফার্সি সন),
  • কাইদান, আসগার, তারিখে ইসলামিয়ে মক্কা মুকার্রামা ও মদিনা মুনাউওয়ারা, তেহরান, নাশরে মাশআর, ১৩৮৬ (ফার্সি সন),
  • কিসমু আদ্-দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাতি মুয়াসসাসাতি আয্-যাহরা, ফাতিমা আয-যাহরা (সাঃ) ফি ভিওয়ানি আশ্-শিঅরিল আরাবি, বৈরুত, বি’সাহ ইনস্টিটিউট, ১৪১৮ হি.,
  • কুম্মী, শেইখ আব্বাস, الانوار البهیه فی تواریخ الحجج الاهیة, ইসলামি আল মুদাররেসিন ইনস্টিটিউট, কোম, (বি:তা:),
  • کتابشناسی قبر مادرم کجاست؟ (‘আমার মায়ের কবর কোথায়?’ গ্রন্থপরিচিতি), ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় আর্কাইভস এবং গ্রন্থাগার সংস্থা, পরিদর্শনের তারিখ: ৩১ই আগস্ট ২০২২,
  • کتابشناسی راز صدف (রাযে সাদাফ’ গ্রন্থপরিচিতি), ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় আর্কাইভস এবং গ্রন্থাগার সংস্থা, পরিদর্শনের তারিখ: ৩১ই আগস্ট ২০২২,
  • শেইখ কুলাইনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, উসুলে কাফি; তাসহিহ- দারুল হাদিস, কোম, দারুল হাদিস, ১৪২৯ হি.,
  • মাযান্দারানী, মুহাম্মাদ সালেহ বিন আহমাদ, শারহুল কাফি বহাশিয়ে আবুল হাসান শা’রানী; তাসহিহ-আলী আকবার গাফ্ফারী, তেহরান, মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাতি লিন্ নাশরি ও আত্-তাউযি, ১৩৮৪ হি.,
  • মাযাহেরী, হুসাইন, আন্দিশেয়ে নাব, ইস্পাহান, আয্-যাহরা সাংস্কৃতিক গবেষণা ইনস্টিটিউট, ১৩৯০ (ফার্সি সন),
  • মাজলেসী, মুহাম্মাদ বাকের, মিরআতুল উকুল; তাহকিক ও তাসহিহ- হাশেম রাসুলি মাহাল্লাতী, তেহরান, দারুল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪০৪ হি.,
  • মাজলেসী, মুহাম্মাদ বাকের, বিহারুল আনওয়ার; তাহকিক ও তাসহিহ- জামই আয মুহাক্কেকান, বৈরুত, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, ১৪০৩ হি.,
  • মাজলেসী, মুহাম্মাদ বাকের, لوامع صاحبقرانی, কোম, ইসমাইলিয়ান প্রকাশনী, ১৪১৪ হি.,
  • মুহিবুদ্দিন তাবারী, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, যাখাইরুল উক্ববা ফি মানাকিবি যাউইল কুরবা, কায়রো, মাকতাবাতুল কুদসি, ১৫৬ হি.,
  • মাসুদী, আলী বিন হুসাইন, التنبیه والإشراف, তাসহিহ- আব্দুল্লাহ ইসমাইল সাভী, কায়রো, দারুস সাভী, (বি:তা:),
  • নাজী জাযায়েরী, সাইয়্যেদ হাশেম, মারকাদু সাইয়্যেদাতিন নিসাই ফাতিমাতু আশ্শাহিদাতুয যাহরা (সা.) ফি আইয়্যি মাকান?, কোম, দানেশ, ১৩৯৫ (ফার্সি সন),
  • নাজমী, মুহাম্মাদ সাদেক, تاریخ حرم ائمه بقیع و آثار دیگر در مدینه منوره (মদিনার জান্নাতুল বাকি'তে ইমামদের মাজার এবং অন্যান্য স্মৃতিস্তম্ভের ইতিহাস), তেহরান, মাশআর, ১৩৮৬ (ফার্সি সন),
  • نهج‌البلاغه, গেরদঅওয়ারিয়ে মুহাম্মাদ বিন হুসাইন শারিফ রাযি; তাসহিহ-সুবহি সালেহ, কোম, দারুল হিজরাহ ইনস্টিটিউট, ১৪১৪ হি.,
  • হেলালি, সুলাইম বিন কাইস, কিতাবে সুলাইম বিন কাইস হেলালি; তাহকিক ও তাসহিহ- মুহাম্মাদ আনসারি যানজানী খুইনী, কোম, আল হাদী, ১৪০৫ হি.।