খসড়া:ইফকের ঘটনা
- (এই নিবন্ধটি ইফকের ঘটনা সম্পর্কে, এ ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে কুরআনের ইফকের আয়াতগুলি দেখুন।)
ইফকের ঘটনা (আরবি: حَادِثَة الإِفك); ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) একজন স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থিত অনৈতিক অভিযোগের ঘটনা। এই ঘটনাটিকে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) ঐশী দাওয়াতের বিরুদ্ধে মুনাফিকদের সবচেয়ে মৌলিক অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে; কারণ তারা মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) ব্যক্তিত্ব ধ্বংস করতে চেয়েছিল এবং তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতার উপর সন্দেহ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু, আল্লাহ ইফকের আয়াতগুলি নাজিল করে শত্রুদের এই ষড়যন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
সূত্রগুলিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে দুটি প্রধান বর্ণনা রয়েছে: প্রথম বর্ণনা অনুসারে যা সুন্নি সূত্রের পাশাপাশি কিছু শিয়া সূত্রেও উদ্ধৃত হয়েছে, মুনাফিকরা হযরত আয়েশাকে অনৈতিক কাজে অভিযুক্ত করার পরে কুরআনের আয়াতগুলি অবতীর্ণ হয়েছিল। এই বর্ণনা অনুসারে, বনু মুস্তালিকের যুদ্ধে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) সাথে থাকা আয়েশা মুসলিম কাফেলা থেকে পিছনে থেকে যান এবং সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তালের সহায়তায় কাফেলায় পৌছান। কিছু মুনাফিক হযরত আয়েশা এবং সাফওয়ানের ব্যাপারে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনেছিল। তবে, শিয়া গবেষকদের একটি দল বিশ্বাস করে যে, এই সনদ এবং মতনগত দিক থেকে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে, যেমন- মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) আয়েশা সম্পর্কে সন্দেহ যা নবীদের ইসমাতের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) স্ত্রীরা অন্যান্য যুদ্ধে তাঁর সাথে না ছিলেন।
দ্বিতীয় বর্ণনাটি যা শিয়া সূত্র থেকে তাফসিরে কুম্মিতে উদ্ধৃত করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, হযরত আয়েশা কর্তৃক মারিয়া প্রতি অপবাদই ছিল আয়াতটি নাজিলের কারণ। এই বর্ণনা অনুসারে, মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) পুত্র ইব্রাহিম মারা যাওয়ার পর, আয়েশা মারিয়াকে অপবাদ দিয়েছিলেন এবং ইব্রাহিমকে জুরাইহ নামে এক ব্যক্তির পুত্র বলে মনে করেছিলেন। আয়েশার বক্তব্যের ভিত্তিতে, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) ইমাম আলী (আ.)-কে জুরাইহকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইমাম আলী (আ:) যখন জুরাইহের মুখোমুখি হন তখন বুঝতে পারেন যে অভিযোগটি মিথ্যা। এই বর্ণনারও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যেমন- কুরআনের আয়াতের সাথে অসঙ্গতি, তদন্ত না করেই অভিযুক্তকে হত্যা করার জন্য মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) নির্দেশ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপবাদের শাস্তি কার্যকর করতে ব্যর্থতা।
কিছু শিয়া আলেম, যেমন- মুহাম্মদ হুসাইন তাবাতাবাই, সাইয়্যিদ মুহাম্মদ হুসাইন ফজলুল্লাহ, মাকারেম শিরাজী এবং জাফর সোবহানী, উভয় বর্ণনার ত্রুটির কারণে কোনোটিই গ্রহণ করেননি। তাবাতাবাই কেবল নিশ্চিত করেছেন যে, কুরআনের আয়াতের উপর ভিত্তি করে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল তিনি পরিচিত এবং মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর পরিবারের সদস্য ছিলেন।
শিয়া ও সুন্নি সূত্রে হযরত মারিয়ার বিরুদ্ধে হযরত আয়েশার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে; কিন্তু তাদের কোনওটিতেই ইফকের আয়াত নাজিলের কথা উল্লেখ করা হয়নি। শিয়া গবেষকদের মধ্যে, কেবলমাত্র সাম্প্রতিক গবেষকরা, যেমন- সাইয়্যিদ আবুল কাসিম খুয়ী (মৃত্যু: ১৩৭১) এবং সাইয়্যিদ মুর্তজা আসকারী (মৃত্যু: ১৩৮৬) ইফকের আয়াতটিকে হযরত মারিয়ার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করেছেন।
বলা হয়ে থাকে যে, ইফকের হাদিস অধ্যয়ন ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলির মধ্যে একটি এবং অত্যন্ত জটিল। ইফকের ঘটনার উপর সাইয়্যেদ জাফর মুর্তজা আমেলি ‘হাদিসুল ইফক’ এবং আলী মাহমুদ রাশওয়ান ‘হাদিসুল ইফক মিনাল মানযুরিল ই’লামি’ নামে বই লিখেছেন।
ইসলামের ইতিহাসে ইফকের ঘটনার গুরুত্ব
ইফক (অর্থাৎ, মিথ্যা[১] এবং অপবাদ[২]) বলতে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর যুগের একটি ঘটনাকে বোঝায় যেখানে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর একজন স্ত্রীর উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে আল্লাহ ইফকের আয়াত (সূরা নূরের ১১-২৬ আয়াত) নাজিল করেন।[৩] বলা হয় যে, অপবাদ আরোপকারীরা এর মাধ্যমে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) ব্যক্তিত্ব ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এই আয়াতগুলি অবতীর্ণ করে অপবাদ আরোপকারীদের তিরস্কার করে, মহান আল্লাহ প্রকৃত সত্যকে স্পষ্ট করে তুলেছেন এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র ধ্বংস করেছেন।[৪]
কিছু গবেষক ইফকের ঘটনাকে মহানবীর (সাঃ) মিশনের বিরুদ্ধে মুনাফিকদের সবচেয়ে মৌলিক অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র হিসাবে উপস্থাপন করেছেন;[৫] কারণ তারা মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) মিশনের সত্যতা এবং তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতার উপর সন্দেহ তৈরি করতে চেয়েছিল[৬] এবং তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে চেয়েছিল।[৭] কারো কারো মতে, ইফকের হাদিস অধ্যয়ন ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন এবং স্পর্সকাতর বিষয়গুলির মধ্যে একটি।
ইফকের আয়াত
সূরা নূরের ১১-২৬ আয়াতে, একজন মুসলিমের উপর অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে এবং মহান আল্লাহ এই অভিযোগের জন্য অভিযোগকারীদের তিরস্কার করেন [৮] তাফসিরে আল মিযানের লেখক মুহাম্মদ হুইসান তাবাতাবাইয়ের মতে, কুরআনে ব্যবহৃত আয়াতগুলি ইঙ্গিত দেয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সুপরিচিত এবং মহানবীর (সাঃ) পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং অভিযোগকারীরা ছিল একটি দল (মুনাফিক)।[৯] এই আয়াতগুলিতে, মহান আল্লাহ অভিযোগকারীদেরকে মহাশাস্তির হুমকি দিয়েছেন এবং প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই গুজব গ্রহণ করার জন্য মুমিনদেরকে তিরস্কার করেছেন।[১০]
এই আয়াতগুলিতে, মহান আল্লাহ সতী নারীদের উপর অনৈতিকতার অভিযোগ আনা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং সতী নারীদের এই ধরনের অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।[১১]
ইফকের ঘটনা সম্পর্কিত ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা
ইফকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।[১২] কিছু শিয়া বর্ণনায়, হযরত মারিয়া কিবতিয়াকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; তবে, সুন্নি বর্ণনা এবং অন্যান্য শিয়া সূত্রে, হযরত আয়েশাকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।ref>মুনতাজিরি, পাসোখ বে পোরসেশহায়ে দিনি, ১৩৮৯ ফার্সি সন, পৃ: ৪২।</ref> তাফসিরে কুম্মির লেখক আলী ইবনে ইব্রাহিম কুম্মির ভাষ্য অনুয়ায়ী,[১৩] শিয়ারা হযরত মারিয়া সম্পর্কে ইফকের আয়াত নাযিল হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে না, অথবা অন্তত শিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে, হযরত মারিয়াহ সম্পর্কে ইফকের আয়াত নাযিল হওয়া বেশি প্রসিদ্ধ।[১৪] কিন্তু কিছু গবেষকের মতে, শিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে, মারিয়া সম্পর্কে ইফকের আয়াত নাযিল হওয়া প্রসিদ্ধ তো নয়; বরং প্রথম সারির আলিমদের মধ্যে, এই আয়াত আয়েশা সম্পর্কে নাযিল হওয়াটাই বেশি প্রসিদ্ধ ছিল;[১৫]অষ্টম শতাব্দীর একজন শিয়া ফকিহ এবং ধর্মতত্ত্ববিদ আল্লামা হিল্লি, ইফকের আয়াতগুলি আয়েশার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন এবং বিপরীত আরেকটি তত্ত্বের অস্তিত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।[১৬]
প্রথম বর্ণনা: হযরত আয়েশার প্রতি অপবাদ আরোপ
১৪শ শতাব্দীর একজন শিয়া মুফাসসির মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়াহর মতে, বেশিরভাগ মুফাসসির এবং ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন যে, ইফকের আয়াতগুলি মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ (৫ম হিজরী[১৭] বা ৬ষ্ঠ হিজরী[১৮]) থেকে ফিরে আসার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।[১৯] হযরত আয়েশার বর্ণনা অনুসারে, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি), যিনি সর্বদা যুদ্ধের সময় তাঁর স্ত্রীদের থেকে একজনকে সাথে নিয়ে যেতেন, বনু মুস্তালিকের যুদ্ধের সময় তিনি হযরত আয়েশাকে সাথে নিয়ে যান।[২০] এই যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে, যখন কাফেলারা বিশ্রামের জন্য থেমে গেল, তখন আয়েশা তাবু থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং যখন তিনি তার গলার হার হারিয়ে ফেললেন, তখন তিনি এটি খুঁজতে কিছু সময় ব্যয় করলেন।[২১] আয়েশার অনুপস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞ সৈন্যরা বিশ্রাম শেষে বেরিয়ে পড়ল এবং তারা ভেবেছিল যে হযরত আয়েশা সেখানে আছে।[২২] তাবুতে ফিরে আসার পর, আয়েশা কাফেলাকে দেখতে না পেয়ে সেখানেই থেকে যান যতক্ষণ না সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল নামে এক ব্যক্তি তার কাছে এসে তাকে তার উটটি দেন, যাতে তিনি তার সাথে কাফেলায় পৌছাতে পারেন।[২৩] এই সফর থেকে ফিরে আসার পর অসুস্থ আয়েশা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর আচরণে পরিবর্তন এবং সাফওয়ানের সাথে তার সম্পর্ক সম্পর্কে গুজব লক্ষ্য করেন।[২৪] কিছু সময় পর, অপবাদ আরোপকারীদেরকে ভর্ৎসনা করে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়।[২৫]
যেসব শিয়া আলেমগণ ইফকের ঘটনাকে হযরত আয়েশার অপবাদের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: নাসর ইবনে মুযাহিম ওয়াকয়াতু সিফফিন গ্রন্থে,[২৬] নু'মানী তার তাফসীরে,[২৭] শেইখ মুফিদ আল জামাল গ্রন্থে,[২৮] শেইখ তুসী আত তিবয়ান গ্রন্থে,[২৯]তাবরিসি ই'লামুল ওয়ারাতে,[৩০] কুতুবুদ্দিন রাওয়ান্দি ফিকহুল কুরআন,[৩১] এবং মুকাদ্দাস আরদাবিলি জুবদাতুল বায়ান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।[৩২]
অপবাদ আরোপকারী কারা ছিল?
ইফকের আয়াতগুলিতে, অপবাদ আরোপকারীদেরকে একদল লোক বলা হয়েছে এবং তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি;[৩৩] তবে, কিছু সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই, হাসান ইবনে সাবিত এবং মিস্তাহ ইবনে উসাসার মতো মুনাফিকদের ইফকের ঘটনার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩৪]
হযরত আয়েশা (রা.)-এর জন্য ফযিলত তৈরি
আহলে সুন্নত হযরত আয়েশার ব্যাপারে কুরআনের আয়াত নাজিল হওয়াকে তার জন্য একটি মহান ফযিলত হিসেবে মনে করে।[৩৫] যদিও বিভিন্ন সুন্নি হাদিসসমূহে এই বর্ণনার উল্লেখ রয়েছে, শিয়া ইতিহাসবিদ সাইয়্যিদ জাফর মুর্তজা আমেলির মতে, এই বর্ণনাগুলির প্রায় সবই আয়েশা নিজেই বর্ণনা করেছেন।[৩৬] কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন যে, হযরত আয়েশা কিছু বিষয় উত্থাপন করে এই ঘটনাটিকে একটি ব্যক্তিগত ঘটনায় পরিণত করেছিলেন।[৩৭] আর তিনি নিজের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে এবং নিজের জন্য ফযিলত তৈরি করেছেন।[৩৮] এই কারণেই শিয়ারা এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে।[৩৯] সেই অনুযায়ী, তারা বলেছেন যে, হযরত আয়েশা সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাজিল হলেও, এটি কেবল তার সতীত্বের ইঙ্গিত দেয় এবং তার জন্য অন্য কোনও ফযিলত প্রমাণ করে না।[৪০]
দ্বিতীয় বর্ণনা: হযরত মারিয়ার প্রতি অপবাদ আরোপ
ইফকের আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে হযরত মারিয়ার কাহিনীর সম্পর্ক সর্বপ্রথম আলী ইবনে ইব্রাহিম কুম্মি কর্তৃক তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়।[৪১] আলী ইবনে ইব্রাহিম কুম্মি কর্তৃক ইমাম বাকির (আ.) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুসারে, আয়েশা মারিয়া কিবতিয়ার বিরুদ্ধে জুরাইহ কিবতির সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আনেন।[৪২] এই বর্ণনা অনুসারে, যখন মহানবী (সা.) তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছিলেন, তখন তিনি আয়েশার এই অভিযোগের মুখোমুখি হন যে, "ইব্রাহিমের মৃত্যুতে দুঃখ করবেন না, কারণ সে জুরাইহের পুত্র ছিল।"[৪৩] এই কারণে, মহানবী (সা.) ইমাম আলী (আ.)-কে জুরাইহকে হত্যা করতে বলেন।[৪৪] ইমাম আলীর (আ.) উদ্দেশ্য জানতে পেরে জুরাইহ পালিয়ে একটি গাছের চূড়ায় উঠে যায়।[৪৫] এ সময়, তার লজ্জাস্থান থেকে কাপড় সরে গেলে ইমাম আলী (আ.) বুঝতে পারেন যে নপুংসক।[৪৬] এভাবে, মারিয়ার উপর থেকে অনৈতিক অভিযোগ মুছে ফেলা হয় এবং ইফকের আয়াত নাজিল হয়।[৪৭]
বলা হয় যে, শিয়া পণ্ডিতদের মধ্যে, কেবলমাত্র সাম্প্রতিক সময়ের পণ্ডিতরা ইফকের আয়াতটিকে মারিয়ার সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করেছেন।[৪৮] এই গবেষকদের মধ্যে, সাইয়্যিদ আবুল কাসিম খুয়ী,[৪৯] সাইয়্যিদ জা'ফর মুর্তজা আমেলি[৫০] এবং সাইয়্যিদ মুর্তজা আসকারী[৫১] এর কথা উল্লেখ করা যায়। শেইখ মুফিদ, যিনি মারিয়ার হাদিসের উপর রিসালাতু হাওলা খাবারি মারিয়াহ নামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখেছেন, তিনি এই হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলে মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে, সকল আলেম এই বর্ণনাকে সহীহ বলে মনে করেন;[৫২] কিন্তু তিনি যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাতে কুরআনের আয়াত নাজিলের কোন উল্লেখ নেই;[৫৩] অন্যান্য অনেক সূত্রে মারিয়ার কাহিনী ইফকের আয়াত নাজিলের কথা উল্লেখ না করেই বর্ণিত হয়েছে; এই সূত্রগুলির মধ্যে রয়েছে- আমালিয়ে সাইয়্যিদ মুর্তজা,[৫৪] আল হিদায়াতুল কুবরা,[৫৫] দা'লাইলুল ইমামা,[৫৬] এবং আল মানাকিব।[৫৭] আহলে সুন্নতের আলেমগণ ইফকের আয়াতের অধীনে আয়েশার বিরুদ্ধে মুনাফিকদের অপবাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন; তবে,মারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সুন্নি উত্সগুলিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো: সহীহ মুসলিম,[৫৮] তাবাকাতুল কুবরা,[৫৯] আনসাবুল আশরাফ,[৬০] আল মুস্তাদরাক 'আলা সাহিহাইন, [৬১] এবং সাফওয়াতুস সাফওয়াহ।[৬২]
দুটি বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাই

এই দুটি বর্ণনায় কিছু ত্রুটি রয়েছে এবং কিছু মুফাসসির, যেমন- মুহাম্মদ হুসাইন তাবাতাবা'ঈ,[৬৩] সাইয়্যিদ মুহাম্মদ হুসাইন ফাজলুল্লাহ,[৬৪] মাকারেম শিরাজী,[৬৫] এবং জা'ফর সোবহানী, এই ত্রুটির কারণে উভয়টিকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।[৬৬] উভয় বর্ণনাকেই ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করা হওয়ার কারণে বলা হয়েছে যে, এই আয়াতটি তৃতীয় ব্যক্তির সম্পর্কে নাজিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।[৬৭] বিপরীতে, কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন যে, উভয় ঘটনাই সত্য হতে পারে; তা এভাবে যে, আয়েশার ঘটনায় আয়াত নাজিল হয়েছিল, কিন্তু মারিয়ার ঘটনায় কোন আয়াত নাজিল হয়নি।[৬৮]
আয়েশা সম্পর্কিত বর্ণনার ত্রুটি
শিয়ারা সকল নবীর (আ.) স্ত্রীদের (এমনকি নূহ ও লূতের স্ত্রীদেরও) ব্যভিচার থেকে পবিত্র বলে মনে করে;[৬৯] তবে, তাদের কারো কারো মতে, ইফকের আয়াত নাজিল হওয়ার কথা আয়েশার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বলে বর্ণিত হাদিসগুলিতে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে।[৭০] সাইয়্যিদ জাফর মুর্তজা এই ঘটনাটিকে বানোয়াট বলে মনে করেছেন এবং এর বানোয়াটকারীদের লক্ষ্য ছিল আয়েশার ফযিলত বৃদ্ধি করা।[৭১] কিছু হাদিসের সনদগত দুর্বলতা[৭২] এবং কিছু হাদিসের অসঙ্গতি[৭৩] ছাড়াও, বেশ কয়েকটি সমস্যা নিম্নরূপ বলা হয়েছে:
- এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) একটি শিশুর কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া: এই হাদিসগুলিতে বলা হয়েছে যে মহানবী (সাঃ) এই বিষয়ে আলী ইবনে আবি তালিব এবং উসামা ইবনে যায়েদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন, উসামা আয়েশার পক্ষে কথা বলেছিলেন এবং ইমাম আলী (আ.) আয়েশার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।[৭৪] যদিও এই ঘটনার সময় উসামা ছোট শিশু ছিলেন।[৭৫]
- অন্যান্য যুদ্ধে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) স্ত্রীরা তাঁর সাথে ছিলেন না: আয়েশা সম্পর্কিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর কোন একজন স্ত্রীকে সঙ্গে রাখতেন; তবে, অন্যান্য যুদ্ধে মহানবীর (সাঃ) স্ত্রীদের উপস্থিতির বর্ণনা দেয় এমন কোনও হাদিস নেই।[৭৬]
- আয়েশা (রাঃ) সম্পর্কে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) সন্দেহ: সুন্নিদের মতে, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) আয়েশা (রাঃ) সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলেন; তবে, এই ধরনের কথা মহানবীর (সাঃ) অভ্রান্ততার মর্যাদার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।[৭৭]
- অপবাদ আরোপকারীদের উপর অপবাদের হাদ্দে কাযাফ বাস্তবায়ন না করা: এই ঘটনার আগে, কুরআনের স্পষ্ট আয়াত দ্বারা ইসলামে অপবাদের হাদ্দ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল; তবে, যদি আয়েশার ঘটনা সত্য হত, তাহলে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার সময় (প্রায় এক মাস) মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) পক্ষে অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তাদের কথার প্রমাণ না চাওয়া এবং তাদের উপর অপবাদের শাস্তি প্রদান না করা বা বিলম্ব করা সম্ভব হত না।[৭৮] তবে, তৃতীয় শতাব্দীর ঐতিহাসিক ইয়াকুবির মতে, মহানবী (সাঃ) অপবাদ আরোপকারীদের শাস্তি দিয়েছিলেন।[৭৯]
- সাফওয়ান ইবনে মা'তিল অবিবাহিত ছিলেন: এই বর্ণনায় আয়েশা সাফওয়ানকে একজন অবিবাহিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে অন্যান্য বর্ণনা অনুসারে, তার একজন স্ত্রী ছিল এবং তার স্ত্রী তার সম্পর্কে মহানবীর (সাঃ) কাছে অভিযোগ করেছিলেন।[৮০]
- শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির দ্বারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করা: সাইয়্যিদ জাফর মুর্তজার মতে, এই অংশের বেশিরভাগ বর্ণনা এবং সম্ভবত এ সংক্রন্ত সমস্ত বর্ণনা আয়েশা থেকে বর্ণিত এবং কীভাবে সম্ভব যে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির দ্বারা বর্ণিত এবং অন্য কারোও থেকে বর্ণিত হয়নি?[৮১]
মারিয়া সম্পর্কিত বর্ণনার ত্রুটি
মারিয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসেরও সমালোচনা করা হয়েছে, কিছু গবেষক এই বর্ণনাকে সমস্যাযুক্ত বলে মনে করেছেন।[৮২] শিয়া মুফাসসিদের একজন সাইয়্যিদ মুহাম্মদ হুসাইন ফাজলুল্লাহর মতে, এই বর্ণনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলি আয়েশা সম্পর্কিত বর্ণনার তুলনায় বেশি।[৮৩] এর মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি হল:
- অপবাদ আরোপকারীদের বিরুদ্ধে অপবাদের হাদ্দ কার্যকর করতে ব্যর্থতা: যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এই ঘটনার আগেই অপবাদ আরোপের হুকুম বর্ণিত ছিল, তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া আলিহি) কেন মারিয়ার অপবাদ আরোপকারীদের বিরুদ্ধে অপবাদের হাদ্দ কার্যকর করেননি।[৮৪]
- কারণ বা তদন্ত ছাড়াই অভিযুক্তকে হত্যা করার জন্য নির্দেশ: সত্য বা মিথ্যা তদন্ত না করেই মহানবী (সা:) কীভাবে অভিযুক্তকে হত্যার নির্দেশ দিতে পারেন? অধিকন্তু, এই ধরনের পাপের শাস্তি ব্যক্তিকে হত্যা করা নয়।[৮৫]
- কুরআনের আয়াতের সাথে অসঙ্গতি: কুরআনের আয়াতগুলি ইঙ্গিত করে যে, অপবাদ আরোপকারীরা একটি দল ছিল, যদিও এই বর্ণনায় কেবল আয়েশাকে অপবাদ আরোপকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।[৮৬]
তথ্যসূত্র
- ↑ ফারাহিদি, আল আইন, ১৪১০ হি., খ: ৫, পৃ: ৪১৬।
- ↑ ইবনে মানযুর, লিসানুল আরব, ১৪১৪ হি., খ: ১০, পৃ: ৩৯০।
- ↑ খোরাসানি ও দাশতি, আয়েহায়ে নামদার, ১৩৮৮ (ফার্সি সন), পৃ: ৩৮।
- ↑ মুনতাজিরি, পাসোখ বে পোরসেশহায়ে দিনি, ১৩৮৯ (ফার্সি সন), পৃ: ৪৩।
- ↑ হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬০।
- ↑ রাশওয়ান, হাদিসুল ইফক মিনাল মানযুরিল ইসলামি, ১৪১৫ হি., পৃ: ১২।
- ↑ জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশহায়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ৪৭।
- ↑ তাবাতাবাই, আল মিজান, ১৪১৭ হি., খ: ১৫, পৃ: ৮৯।
- ↑ তাবাতাবাই, আল মিজান, ১৪১৭ হি., খ: ১৫, পৃ: ৮৯।
- ↑ মাকারেম শিরাজি, আল আমসাল, ১৪২১ হি., খ: ১১, পৃ: ৪৬।
- ↑ সুরা নুর: ২০-২৬।
- ↑ মুনতাজিরি, পাসোখ বে পোরসেশহায়ে দিনি, ১৩৮৯ ফার্সি সন, পৃ: ৪২।
- ↑ কুমি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬৬।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৫৮।
- ↑ আল্লামা হিল্লি, আজওবাতুল মাসাইলিল মুহান্নাইয়া, ১৪০১ হি., পৃ: ১২১।
- ↑ ইবনে সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ১৪১৪ হি., খ: ২, পৃ: ৪৮-৫০; মাসউদি, আত তানবিহ ওয়াল আশরাফ, মুয়াসসাসাত নাশরিল মানাবিআস সাকাফাতিল ইসলামিয়া, পৃ: ২১৫।
- ↑ ইবনে আসির, আসাদুল গাবা, ১৪০৯ হি., খ: ১, পৃ: ২৯।
- ↑ মুগনিয়া, তাফসিরুল কাশিফ, ১৪২৪ হি., খ: ৫, পৃ: ৪০৩।
- ↑ বুখারি, সহিহুল বুখারি, ১৪২২ হি., খ: ৬, পৃ: ১০১।
- ↑ ওয়াকিদি, আল মাগাজি, ১৪০৯ হি., খ: ২, পৃ: ৪২৮।
- ↑ ইবনে হিশাম, আস সিরাতুন নাবাবিয়া, দারুল মারিফা, খ: ২, পৃ: ২৯৮।
- ↑ মুসলিম, সহিহ মুসলিম, দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, খ: ৪, পৃ: ২১২৯।
- ↑ সানআনি, আল মুসান্নাফ, ১৪০৩ হি., খ: ৫, পৃ: ৪১০।
- ↑ ওয়াহিদি নিশাবুরি, আসবাবু নুজুলিল কুরআন, ১৪১১ হি., পৃ: ৩৩২।
- ↑ ইবনে মুযাহিম, ওয়াকআতু সিফফিন, ১৪০৪ হি., পৃ: ৫২৩।
- ↑ নু'মানী, রিসালাতুল মুহকাম ওয়াল মুতাশাবিহ, ১৩৮৪ ফার্সি সন, পৃ: ১৫৬।
- ↑ শেইখ মুফিদ, আল-জামাল, ১৪১৬ হি., পৃ: ১৫৭।
- ↑ শেইখ তুসি, আত তিবিয়ান, খ: ৭, পৃ: ৪১৫।
- ↑ তাবরিসি, ই'লামুল ওয়ারা, ১৪১৭ হি., খ: ১, পৃ: ১৯৭।
- ↑ রাওয়ান্দি, ফিকহুল কুরআন, ১৪০৫ হি., খ: ২, পৃ: ৩৮৮।
- ↑ মুকাদ্দাস আরদাবিলি, যুবদাতুল বাইয়ান, মাকতাবাতুল মারতাজাবিয়া, পৃ: ৩৮৮।
- ↑ সুরা নুর: ১১।
- ↑ ইয়াকুবি, তারিখুল ইয়াকুবি, দারু সাদির, খ: ২, পৃ: ৫৩; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ১৩৮৭ হি., খ: ২, পৃ: ৬১৪-৬১৬।
- ↑ ফাখরুদ্দিন রাজি, আত তাফসিরুল কাবির, ১৪২০ হি., খ: ২৩, পৃ: ৩৩৮; ইবনে আসির, আসাদুল গাবা, ১৪০৯ হি., খ: ৬, পৃ: ১৯১।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৯০।
- ↑ জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশহায়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ৫২।
- ↑ হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬১।
- ↑ জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশহায়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ৫২ ও হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬১।
- ↑ হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬১।
- ↑ হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, বাররাসিয়ে তারিখিয়ে তাফসিরিয়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ১৬৬।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ কুম্মি, তাফসিরুল কুমি, ১৩৬৩ (ফার্সি সন), খ: ২, পৃ: ৯৯।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৫৮।
- ↑ খুয়ী, সিরাতুন নাজাত, ১৪১৬ হি., খ: ১, পৃ: ৪৬৩।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৩৮১-৩৮২।
- ↑ আসকারি, আহাদিসে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা, ১৪২৫ হি., খ: ২, পৃ: ১৮৬-১৮৭।
- ↑ শেইখ মুফিদ, রিসালাতুন হাওলা খাবরে মারিয়া, ১৪১৩ হি., পৃ: ১৮।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৫৪।
- ↑ সাইয়্যিদ মুর্তজা, আমালিল মুরতাজা, ১৯৯৮ ঈ., খ: ১, পৃ: ৭৭।
- ↑ খুসাইবী, আল হিদায়াতুল কুবরা, ১৪১৯ হি., পৃ: ২৯৭-২৯৮।
- ↑ তাবারি, দালাইলুল ইমামাহ, ১৪১৩ হি., পৃ: ৩৮৬-৩৮৭।
- ↑ ইবনে শাহর আশুব, আল মানাকিব, ১৩৭৯ হি., খ: ২, পৃ: ২২৫।
- ↑ মুসলিম, সহিহ মুসলিম, দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, খ: ৪, পৃ: ২১৩৯।
- ↑ ইবনে সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ১৪১০ হি., খ: ৮, পৃ: ১৭২।
- ↑ বালরাজুরি, আনসাবুল আশরাফ, ১৯৫৯ খ্রি., পৃ: ৪৫০
- ↑ হাকেম নিশাপুরী, আল মুস্তাদরাক 'আলা সাহিহাইন, ১৪১১ হি., খ: ৪, পৃ: ৪১।
- ↑ ইবনে জুওযী, সাফওয়াতুস সাফওয়াহ, ১৪২১ হি., খ: ১, পৃ: ৩৪৫।
- ↑ তাবাতাবা'ঈ, আল মিজান, ১৪১৭ হি., খ: ১৫, পৃ: ৮৯।
- ↑ ফাজলুল্লাহ, তাফসিরু মিন ওয়াহিল হাদিস, ১৪১৯ হি., পৃ: ২৫২-২৫৭।
- ↑ মাকারেম শিরাজি, তাফসিরে নমুনা, ১৩৭৪ (ফার্সি সন), খ: ১৪, পৃ: ৩৯১-৩৯৩।
- ↑ সুবহানি, মানশুরে জাবিদ, ১৩৯০ (ফার্সি সন), খ: ৯, পৃ: ১১৮।
- ↑ জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশ-হে হাদিসে ইফক, পৃ: ৪৭।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৬৩।
- ↑ তুসি, আত তিবিয়ান, দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, খ: ১০, পৃ: ৫২; তাবারসি, জাওয়ামিউল জামি, ১৪১৮ হি., খ: ৩, পৃ: ৫৯৬।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৫৫-৩৩৪; আসকারি, আহাদিসে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা, ১৪২৫ হি., খ: ২, পৃ: ১৬৭-১৮১।
- ↑ আমিলি, আস সাহিহু মিন সিরাতিন নাবিয়্যিল আযম, ১৪২৬ হি., খ: ১২, পৃ: ৭৭-৭৮, ৮১, ৯৭।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৫৭-৯০।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৯৪-১১২।
- ↑ ইবনে হিশাম, আস সিরাতুন নাবাবিয়া, দারুল মারিফা, খ: ২, পৃ: ৩০৭।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ১৭৮-১৮১।
- ↑ তা'ই, সিরাতুস সাইয়িদাতিল আয়েশা, ১৪২৭ হি., খ: ১, পৃ: ২০৫-২০৬।
- ↑ তাবাতাবাই, আল মিজান, ১৪১৭ হি., খ: ১৫, পৃ: ১০১; মাকারেম শিরাজি, আল আমসাল, ১৪২১ হি., খ: ১১, পৃ: ৪০।
- ↑ মাকারেম শিরাজি, আল আমসাল, ১৪২১ হি., খ: ১১, পৃ: ৪১; জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশহায়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ৫৩।
- ↑ ইয়াকুবি, তারিখুল ইয়াকুবি, দারু সাদির, খ: ২, পৃ: ৫৩।
- ↑ জাফরনিয়া, বাররাসি ও নাকদে গোজারেশহায়ে হাদিসে ইফক, পৃ: ৫৮।
- ↑ আমিলি, হাদিসুল ইফক, ১৪৩৯ হি., পৃ: ৯১।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৪৯।
- ↑ ফাজলুল্লাহ, মিন ওয়াহইয়িল কুরআন, ১৪১৯ হি., খ: ১৬, পৃ: ২৫৫।
- ↑ খাশান, আবহাছু হাওলাস সাইয়িদা আয়েশা, ১৪৩৮ হি., পৃ: ২৫০।
- ↑ ফাজলুল্লাহ, মিন ওয়াহইয়িল কুরআন, ১৪১৯ হি., খ: ১৬, পৃ: ২৫৬।
- ↑ মাকারেম শিরাজি, আল-আমসাল, ১৪২১ হি., খ: ১১, পৃ: ৪১।
গ্রন্থপঞ্জি
- কুরআন কারিম,
- ইবনে আসির, আলি ইবনে মুহাম্মাদ, আসাদুল গাবাহ ফি মারিফাতিস সাহাবাহ, বৈরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৯ হি.,
- ইবনে জুউযী, আব্দুর রহমান ইবনে আলি, সাফওয়াতুস সাফওয়াহ, কাহিরা, দারুল হাদিস, ১৪২১ হি.,
- ইবনে সা’দ, মুহাম্মদ, তাবাকাতুল কুবরা, তায়িফ, মাকতাবাতুস সিদ্দিক, ১৪১৪ হি.,
- ইবনে শাহর আশুব, মুহাম্মদ ইবনে আলি, মানাকিবে আলি আবি তালিব (আ.), কোম, আল্লামাহ, ১৩৭৯ হি.,
- ইবনে মুযাহাম, নাসর, ওয়াকআতু সিফফিন, হি., আয়াতুল্লাহ মারাশি নাজাফি লাইব্রেরি, ১৪০৪ হি.,
- ইবনে মানজুর, মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম, লিসানুল আরব, বৈরুত, দার সাদির, ১৪১৪ হি.,
- ইবনে হিশাম, আব্দুল মালিক, সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, তাহকিক: মুস্তাফা আস সাকা ওয়া ইবরাহিম আল আবিয়ারি ওয়া আব্দুল হাফিজ শালাবি, বৈরুত, দারুল মারিফাহ, (বি:তা:),
- বুখারি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, সহিহুল বুখারি, বৈরুত, দারু তাওকিন নাজাত, ১৪২২ হি.,
- বালাযুরি, আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, মিসর, দারুল মাআরিফ, ১৯৫৯ সাল,
- জাফরনিয়া, ফাতেমা, بررسی و نقد گزارشهای حادثه افک(ইফকের ঘটনার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা এবং সমালোচনা), জার্নাল অফ হিস্ট্রি রিসার্চ, সংখ্যা -৪৭, গ্রীষ্ম, ২০১৮,
- হাকিম নিশাবুরি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আল মুস্তাদরাকু আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, ১৪১১ হি.,
- হুসাইনিয়ান মুকাদ্দাম, হুসাইন, بررسی تاریخیـتفسیری حادثه افک,(ইফকের ঘটনার ঐতিহাসিক-ব্যাখ্যামূলক অধ্যয়ন), ইসলামিক হিস্ট্রি জার্নাল ইন দ্য মিরর অফ রিসার্চ, সংখ্যা-৭, শরৎ ২০০৬,
- খোরাসানি, আলি ও সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ দাশতি, আয়াতহায়ে নামদার, কোম, নাশরে জামাল, ১৩৮৮ (ফার্সি সন),
- খাশান, হুসাইন আহমদ, আবহাসু হাওলাস সাইয়্যিদাতি আয়িশাহ রুইয়াতিন শিয়াতনি মুআসিরাহ, বৈরুত, দারু রাওয়াফিদ, ১৪৩৮ হি.,
- খাসাইবি, হুসাইন ইবনে হামদান, হিদায়াতুল কুবরা, বৈরুত, আল বালাগ, ১৪১৯ হি.,
- খুয়ী, সাইয়্যিদ আবুল কাসিম, সিরাতুন নাজাত, বা হাশিয়ায়ে মিরজা জাওয়াদ তাবরিজি, কোম, দাফতারে নাশরে বারগুজিদাহ, ১৪১৬ হি.,
- রাওয়ান্দি, সাইয়্যিদ ইবনে হিবাতুল্লাহ, ফিকহুল কুরআন, কোম, আয়াতুল্লাহ মারাশি নাজাফি লাইব্রেরি, ১৪০৫ হি.,
- সুবহানি, জাফর, মানশুরে জাবিদ, কোম, ইমাম সাদিক (আ.) ইনস্টিটিউট, ১৩৯০ (ফার্সি সন),
- সাইয়্যিদ মুর্তাজা, আলি ইবনে হুসাইন, আমালিল মুর্তাজা, কায়রো, দারুল ফিকরিল আরাবি, ১৯৯৮ সাল,
- শাইখ তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আত তিবিয়ান ফি তাফসিরিল কুরআন, বৈরুত, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, (বি:তা:),
- শাইখ মুফিদ, মুহাম্মদ ইবনে নুমান, আল জামাল, কোম, মাকতাবুল ইলামিল ইসলামি, ১৪১৬ হি.,
- শাইখ মুফিদ, মুহাম্মদ ইবনে নুমান, রিসালাতু হাওলা খাবারে মারিয়াহ, কোম, আল মুউতামারুল আলামি লি আলফিয়্যাতিশ শাইখিল মুফিদ, ১৪১৩ হি.,
- সানআনি, আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হামাম, আল মুসান্নাফ, হিন্দ, আল মাজলিসুল ইলমি, ১৪০৩ হি.,
- তাঈ, নাজাহ, সিরাতুস সাইয়্যিদাতিল আয়িশাহ, কোম, দারুল হুদা লি ইহইয়াইত তুরাস, ১৪২৭ হি.,
- তাবাতাবাঈ, সাইয়্যিদ মুহাম্মদ হুসাইন, আল মিজান ফি তাফসিরিল কুরআন, কোম, দাফতারে ইন্তিশারাতে ইসলামি, ১৪১৭ হি.,
- তাবরাসি, ফাজল ইবনে হাসান, আলামুল ওয়ারা, কোম, আলুল বাইত ইনস্টিটিউট, ১৪১৭ হি.,
- তাবরাসি, ফাজল ইবনে হাসান, জাওয়ামিউল জামি, কোম, দাফতারে নশরে ইসলামি, ১৪১৮ হি.,
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে রুস্তম, দালাইলুল ইমামাহ, কোম, বে’সাত, ১৪১৩ হি.,
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, তাহকিক: মুহাম্মদ আবুল ফাজল ইবরাহিম, বৈরুত, দারুত তুরাস, ১৩৮৭ হি.,
- আমিলি, সাইয়্যিদ জাফর মুর্তাজা, আস সাহিহ মিন সিরাতিন নাবিয়্যিল আযম, কোম, দারুল হাদিস, ১৪২৬ হি.,
- আসকারি, সাইয়্যিদ মুর্তাজা, আহাদিসে উম্মুল মুমিনিন আয়িশাহ, তেহরান, উসুলে দ্বীন অনুষদ, ১৪২৫ হি.
- আল্লামাহ হিল্লি, হাসান ইবনে ইউসুফ, আজওবাতুল মাসাইলিল মুহান্নাইয়্যাহ, কোম, মাতবাআতে খিয়াম, ১৪০১ হি.,
- ফখরুদ্দিন রাজি, মুহাম্মদ ইবনে উমার কুরাশি তাবরিস্তানি, আত তাফসিরুল কাবির, বৈরুত, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, ১৪২০ হি.,
- ফারাহিদি, খলিল ইবনে আহমদ, আল আইন, কোম, দারুল হিজরাহ, ১৪১০ হি.,
- ফাজলুল্লাহ, মুহাম্মদ হুসাইন, তাফসিরু মিন ওয়াহইল কুরআন, বৈরুত, দারুল মালাক, ১৪১৯ হি.,
- কুম্মী, আলি ইবনে ইবরাহিম, তাফসিরুল কুমি, কোম, দারুল কিতাব, ১৩৬৩ (ফার্সি সন),
- মাসউদি, আলি ইবনুল হুসাইন, আত তানবিহ ওয়াল আশরাফ, কায়রো, দারুস সাওয়ি, (বি:তা:),
- মুসলিম, ইবনুল হাজ্জাজ আল কুশাইরি, সহিহ মুসলিম, তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, বৈরুত, দার ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, (বি:তা:),
- মুগনিয়াহ, মুহাম্মদ জাওয়াদ, তাফসিরুল কাশিফ, তেহরান, দারুল কুতুবিল ইসলামিয়াহ, ১৪২৪ হি.,
- মুকাদ্দাস আরদাবিলি, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, যুবদাতুল বায়ান, তেহরান, মাকতাবাতুল মুর্তাজাবিয়্যাহ, (বি:তা:),
- মাকারেম শিরাজি, নাসির, আল আমসালু ফি তাফসিরি কিতাবিল্লাহিল মুনাজ্জাল, তরজমাহ ওয়া তালখিস: মুহাম্মদ আলি আজারশাব, কোম, মাদ্রাসাতু ইমাম আলি ইবনে আবি তালিব, ১৪২১ হি.,
- মাকারেম শিরাজি, নাসির, তাফসিরে নেমুনেহ, তেহরান, দারুল কুতুবিল ইসলামিয়াহ, ১৩৭৪ (ফার্সি সন),
- মুনতাজিরি, হুসাইন আলি, পাসোখ বে পোরসেশহায়ে দ্বীনি, কোম, আয়াতুল্লাহ মোনতাজেরির কার্যালয়, ১৩৮৯ (ফার্সি সন),
- নুমানি, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম, রিসালাতুল মুহকাম ওয়াল মুতাশাবিহ, মাশহাদ, মাজমাউল বুহুসিল ইসলামিয়াহ, ১৩৮৪ (ফার্সি সন),
- ওয়াহিদি নিশাবুরি, আলি ইবনে আহমদ, আসবাবে নুজুলিল কুরআন, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, ১৪১১ হি.,
- ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে উমার, আল মাগাজি, তাহকিক: মার্সডেন জোনস, বৈরুত, আযমি ইনস্টিটিউট, ১৪০৯ হি.,
- ইয়াকুবি, আহমদ ইবনে আবি ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবি, বৈরুত, দারু সাদির, (বি:তা:)।