আম্মার ইবনে আবি সালামাহ হামদানী

wikishia থেকে

আম্মার ইবনে আবি সালামাহ দালানী হামদানী; যিনি আম্মার দালানী নামে পরিচিত, মহানবির (সা.) একনিষ্ঠ সাহাবি ছিলেন। তিনি ইমাম আলী ইবনে আবি তালিবের (আ.) সাথে উষ্ট্রের যুদ্ধ, সিফ্ফিনের যুদ্ধ ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং আশুরার ঘটনায় কারবালায় শাহাদাতবরণ করেন।[১]


গোত্র পরিচিতি

আম্মার ছিলেন হামদান গোত্রের অন্যতম শাখা বনী দালান থেকে।[২] কারবালার ঘটনার পূর্বে, তিনি কুফার নিকটবর্তী নুখায়লা শিবিরে ইবনে যিয়াদকে হত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর তিনি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর কাফেলায় যোগ দেন।[৩] কিছু সূত্রে তাঁকে আম্মার নামেও উল্লেখ করা হয়েছে।[৪]


কারবালায় শাহাদাতবরণ

ইবনে হায়েক হামদানির (মৃত্যু: ৩৩৪ হিজরি) আল-ইকলিল মিন আখবারিল ইয়ামান গ্রন্থে বলা হয়েছে, আম্মার বিন আবি সালামা গোপনে কুফা ত্যাগ করেন, তিনি যাহ্র্ বিন কায়েস ও তার সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের পরাজিত করে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শিবিরে পৌঁছান। ইবনে যিয়াদ যাহ্র্ বিন কায়েসকে ৫০০ জন সৈন্যসহ সারাহ সেতু পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে কেউ কুফা থেকে বের হতে না পারে।[৫]


আম্মার বিন আবি সালামাহ আশুরার দিনে প্রথম দিকের আক্রমণে (ইমামের (আ.) বাহিনীর উপর ওমর বিন সাদের বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ) শহীদ হন।[৬] যিয়ারতে শুহাদা-এ (যিয়ারতে নাহিয়্যাহ গাইরে মারুফা) -السَّلَامُ عَلَی عَمَّارِ بْنِ أَبِی سَلَامَةَ الْهَمْدَانِی- এই বাক্যাংশ দ্বারা তাঁকে সালাম করা হয়েছে।[৭]


ইমাম আলীর সাথে কথোপকথন

মুহাম্মাদ বিন তাহির সামাভী (মৃত্যু: ১৩৭০ হিজরি) ইবছারুল আইন গ্রন্থে তারিখে তাবারি এর উদ্ধৃতি দিয়ে যিক্বার থেকে বসরা যাওয়ার পথে তাঁর এবং ইমাম আলীর (আ.) মধ্যকার একটি কথোপকথন বর্ণনা করেছেন। এই কথোপকথনে আম্মার ইমাম আলী (আ.) কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তাদের কাছে পৌঁছে কী করবেন? জবাবে ইমাম (আ.) বললেন, আমি তাদেরকে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর আনুগত্য করার আহ্বান জানাব এবং যদি তারা তা গ্রহণ না করে, তবে আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। আম্মার বলেন, এমনটি হলে তারা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীকে পরাজিত করতে পারবে না।[৮]

ঐতিহাসিক সূত্র অনুসারে, ইমাম আলী (আ.) আয়েশা, তালহা ও যুবায়েরের সাথে মুখোমুখি হও্রয়ার জন্য তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে ইরাকের দিকে রওনা হন এবং ইরাকে প্রবেশের শুরুতেই যিক্বার অঞ্চলে তাবু স্থাপন করেন।[৯]

তথ্যসূত্র

  1. ইবনে হাজার আসকালানী, আল-ইছাবাতু ফি তাময়িযিস্ সাহাবা, ১৪১৫ হিঃ, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-১০৭, সামাভী, ইবছারুল আইন, ১৪১৯ হিঃ, পৃষ্ঠা নং-১৩৪।
  2. ইবনে হাজার আসকালানী, আল-ইছাবাতু ফি তাময়িযিস্ সাহাবা, ১৪১৫ হিঃ, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-১০৭, সামাভী, ইবছারুল আইন, ১৪১৯ হিঃ, পৃষ্ঠা নং-১৩৩।
  3. বালাজুরী, আনসাবুল অশরাফ, ১৪১৭ হিঃ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-১৮০।
  4. ইবনে হায়েক, আল-ইকলিল মিন আখবারিল ইয়ামান, ১৪২৫ হিঃ, ১০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-৯৩।
  5. ইবনে হায়েক, আল-ইকলিল মিন আখবারিল ইয়ামান, ১৪২৫ হিঃ, ১০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-৯৩।
  6. ইবনে শাহর্ অশুব, আল-মানাকেব, ১৩৭৯ হিঃ, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-১১৩।
  7. ইবনে মাশহাদী, আল-মাযারুল কাবির, ১৪১৯ হিঃ, পৃষ্ঠা নং-৪৯৫।
  8. সামাভী, ইবছারুল আইন, ১৪১৯ হিঃ, পৃষ্ঠা নং-১৩৪।
  9. ইবনে আছির, আল-কামিলু ফিত্ তারিখ, ১৩৮৫ হিঃ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-২২৬।

গ্রন্থপঞ্জি

  • ইবনে আছির, আলী ইবনে মুহাম্মাদ, আল-কামিলু ফিত্ তারিখ, বৈরুত, দারু সাদের, প্রথম প্রকাশ, ১৩৮৫ হিঃ।
  • ইবনে হায়েক, হাসান বিন আহমাদ, আল-ইকলিল মিন আখবারিল ইয়ামান, সানা, ভেযারাতুস্ সিক্বাফা ওয়াস্ সিয়াহা, ১৪২৫ হিঃ।
  • ইবনে হাজার আসকালানী, আহমাদ বিন আলী, আল-ইছাবাতু ফি তাময়িযিস্ সাহাবা, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৫ হিঃ।
  • ইবনে শাহর্ অশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, আল-মানাকেব, কোম, আল্লামা, ১৩৭৯ হিঃ।
  • ইবনে মাশহাদী, মুহাম্মাদ, আল-মাযারুল কাবির, কোম, কাইয়্যুম, ১৪১৯ হিঃ।
  • বালাজুরী, আহমাদ বিন ইয়াহয়া, আনসাবুল অশরাফ, বৈরুত, দারুল ফিকর্, ১৪১৭ হিঃ।
  • সামাভী, মুহাম্মাদ ইবনে তাহের, ইবছারুল আইন, মারকাযুদ্ দিরাসাতুল ইসলামিয়্যাহ, ১৪১৯ হিঃ।