যিয়ারতের নামায

wikishia থেকে

যিয়ারতের নামায;মুস্তাহাব নামায যা মাসুমগণের যিয়ারতের সময় আদায় করা হয়। এতে সূরা হামদের পর প্রথম রাকাতে সূরা ইয়াসিন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আর-রাহমান তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব

শেইখ আব্বাস কুম্মি তার মাফাতিহুল জিনান গ্রন্থে আল্লাহর রাসূল (স.)-এর যিয়ারতের নামাযের সর্বোত্তম স্থান তাঁর (স.) রওযা মোবারক এবং অন্যান্য মাসুমগণের ক্ষেত্রে তাঁদের মাথার দিকে বলে উল্লেখ করেছেন।

মাসুম ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে যিয়ারতের নামাযের বিষয়ে রেওয়ায়েতে কোন কিছু উল্লিখিত হয় নি। অতএব, এমন নামায আদায় করা সঠিক নয়; কিন্তু যিয়ারতের পর মুস্তাহাব নামায পড়ে তার সওয়াব ঐ মৃত ব্যক্তির জন্য হাদিয়া করা যেতে পারে।

যিয়ারতের নামায পড়ার নিয়ম

যিয়ারতের নামায ২ রাকাত; যা মাসুমগণের যিয়ারতের সময় পড়া হয়ে থাকে।[১] যিয়ারতের নামাযে সূরা হামদের পর বিশেষ কোন সূরা তেলাওয়াতের কথা বলা হয় নি, কিন্তু দোয়া ও যিয়ারতের পুস্তকসমূহের বর্ণনার ভিত্তিতে উত্তম হলো প্রথম রাকাতে সূরা হামদের পর সূরা ইয়াসিন পাঠ করা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা হামদের পর সূরা আর-রাহমান তেলাওয়াত করা।[২]

দূর থেক মহানবি (স.)-এর যিয়ারতের দু’টি দুই রাকাত বিশিষ্ট মোট ৪ রাকাত নামাযের কথা বর্ণিত হয়েছে।[৩] অন্যান্য মাসুমগণের ক্ষেত্রে দুই রাকাত বিশিষ্ট কয়েকটি নামায পড়া যেতে পারে।[৪]

কিছু কিছু ফকীহ মনে করেন, যখন কোন মাসুমের মাজার যিয়ারত করা হয় তখন যিয়ারত শেষে যিয়ারতের নামায পড়া উত্তম। আর যদি দূর থেকে যিয়ারত করা হয় তবে যিয়ারতের আগে নামায আদায় করতে হয়।[৫]

যিয়ারতের নামাযের সর্বোত্তম স্থান

শেইখ আব্বাস কুম্মি তার মাফাতিহুল জিনান গ্রন্থে আল্লাহর রাসূল (স.)-এর যিয়ারতের নামাযের সর্বোত্তম স্থান তাঁর (স.) রওযা মোবারক এবং অন্যান্য মাসুমগণের ক্ষেত্রে তাঁদের মাথার দিকে বলে উল্লেখ করেছেন।[৬]

ইমামগণ (আ.)-এর সন্তানদের যিয়ারতের নামায

মাসুম ব্যতীত অন্যদের জন্য রেওয়ায়েতে কোন যিয়ারতের নামাযের কথা বর্ণিত হয় নি। কিন্তু বলা হয়েছে যে, যিয়ারতের পর মুস্তাহাব নামায পড়ে তার সওয়াব কবরবাসীকে হাদিয়া করা যেতে পারে।[৭]

বদলি যিয়ারতের নামায

জীবিত ও মৃত ব্যক্তির জন্য বদলি যিয়ারতের নামায পড়া যায়।[৮] একইভাবে সকলের পক্ষ থেকে বা এক জনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে যিয়ারত ও যিয়ারতের নামায আদায় করা সম্ভব।[৯] কিছু কিছু রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে, অপরের জন্য যে মুস্তাহাব আমলসমূহ করা হয় তার সওয়াব উক্ত কাজ সম্পাদনকারী এবং যার পক্ষ থেকে পড়া হয়েছে তাদের উভয়ের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সম্পাদনকারীর সওয়াবে কোন হ্রাস ঘটানো হয় না।[১০]

তথ্যসূত্র

  1. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "আদাবে যিয়ারাত", পৃ. ৪২৯।
  2. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "আদাবে যিয়ারাত", পৃ. ৪৩০।
  3. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "যিয়ারাতে হযরত রাসূল", পৃ. ৪৪৭।
  4. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "যিয়ারাতে হুজ্জাজে তাহেরে দার রুযে জুমএ", পৃ. ৪৪৭।
  5. আলাভি আমেলি, তাকদীমে নামাযে যিয়ারাত দার যিয়ারাত আয বাঈদ, পৃ. ৩৩৯-৩৪৫।
  6. মাফাতিহুল জিনান, আদাবে যিয়ারাত, আদাবে হিফদাহোম, চপে মাশআর, পৃ. ৪৪৭।
  7. সওয়ালাতি দার মওরেদে নামাযে যিয়ারাত, ধর্মীয় সংলাপ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট।
  8. ইমাম খোমেনি, তৌযিহুল মাসায়েলে মারাজেঅ, ১৩৯২ ফার্সি সন, খণ্ড ১, পৃ. ১০৪৯-১০৫১।
  9. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "আদাবে যিয়ারাত বে নিয়াবাত", পৃ. ৮০৩।
  10. শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, ১৩৭৮ ফার্সি সন, যেইলে "আদাবে যিয়ারাত বে নিয়াবাত", পৃ. ৮০৪।

গ্রন্থপঞ্জি

  • ইমাম খোমেনি, ১৬ মারজার ফতওয়া সম্বলিত তৌযিহুল মাসায়েল (ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত), বিন্যাস; সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ হাসান বানি হাশিম খোমেনি, কোম, দাফতারে এন্তেশারাতে ইসলামি, প্রথম প্রকাশ, ১৩৯২ ফার্সি সন।
  • শেইখ আব্বাস কুম্মি, মাফাতিহুল জিনান, তেহরান, মাশআর, প্রথম প্রকাশ, ১৩৭৮ ফার্সি সন।
  • আলাভি আমেলি, তাকাদ্দুমে নামাযে যিয়ারাত দার যিয়ারাত আয বাঈদ, তাহকীক ও তাসহীহ: মুহাম্মাদ জাওয়াদ নূর মোহাম্মাদি, মীরাসে হাওযেয়ে ইসফাহান, ৫ম কার্যালয়, ইসফাহান, মারকাযে তাহকীকাতে রায়ানেয়ে হাওযে ইলমিয়েয়ে ইসফাহান, প্রথম প্রকাশ, ১৪২৯ হি.।